

বাংলার শহর থেকে গ্রামে, বছরের শেষ দিনে দুর্দান্ত ইনিংস শীতের। ২০২৫ সালের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চলতি মরশুমের শীতলতম দিন এটি। শুধু কলকাতা নয়, জেলাতেও রেকর্ড তাপমাত্রা বছরের শেষ দিনে। এক কথায় ভোরের আলো ফুটতেই হাড় কাঁপানো ঠান্ডার দাপট সর্বত্রই। বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠান্ডায় আজ কার্যত জবুথবু তিলোত্তমা।

বুধবার জেলায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। পাহাড়ি শহরের তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে আরও বেশি ঠান্ডা।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে , দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীনিকেতনে, ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের সমতলের মধ্যে সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মালদহে, ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন কালিম্পংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোচবিহারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি, জলপাইগুড়িতে ১১.২ ডিগ্রি, রায়গঞ্জে ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে আজ কল্যাণীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিউরিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.২ ডিগ্রি, আসানসোলে ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্ধমান, বাঁকুড়া ও ব্যারাকপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।
এদিন বহরমপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি, ঝাড়গ্রামে ৯.১ ডিগ্রি, খড়গপুরে ৯.৩ ডিগ্রি, ক্যানিংয়ে ৯ ডিগ্রি, উলুবেড়িয়ায় ৯.৫ ডিগ্রি, পানাগড়ে ৯.২ ডিগ্রি, মগরায় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে পুরুলিয়া, বসিরহাট, দমদম, দিঘায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডায়মন্ড হারবারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.১ ডিগ্রি, কাঁথিতে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক কথায় মাঘের শীত যেন বছরের শেষ দিনেই নিজের সবটুকু তেজ ঢেলে দিয়েছে বাংলার উপর।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে উত্তুরে হাওয়ার পথে বাধা আসতে পারে। এর ফলে নতুন বছরের শুরুতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠান্ডার দাপট কমছে না এখনই।

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস, রবিবার রাত থেকে আবারও নামতে শুরু করবে তাপমাত্রার পারদ। নতুন বছরের ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি মধ্যে রাজ্যে ফের নতুন করে জাঁকিয়ে বসতে পারে শীত। এর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা প্রবল। মোটের উপর, নতুন বছরেরও শীতের ইনিংস অব্যাহত থাকবে, তা বলাই যায়।



