প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বহাল, এবার হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ সুপ্রিম কোর্টে 

0
139

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর চাকরি বাতিলের রায় খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি বহাল রাখে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতিরা বলেছিলেন, “যাঁরা ৯ বছর ধরে কাজ করছেন, তাঁদের পরিবারের কথাও ভাবতে হবে। যাঁরা সফল হননি তাঁদের জন্য সব ড্যামেজ করা যায় না।”

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন করে অনিশ্চয়তায় প্রাথমিকের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষকের  ভবিষ্যৎ। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায়ে চাকরি বহাল রেখেছিল, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন (SLP) দায়ের হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ডিভিশন বেঞ্চে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী একক বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে দেন। এর আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রায় ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। যদিও তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যেতে পারবেন এবং তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যেখানে কেবল যোগ্য প্রার্থীরাই সুযোগ পাবেন।

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল ভিন্ন। দীর্ঘ ন’বছর পর একযোগে এতজনের চাকরি বাতিল হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। সেই যুক্তিতে একক বেঞ্চের রায় বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি মিলেছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের।

তবে মামলাকারীদের অভিযোগ, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মানবিকতার যুক্তিতে চাকরি বহাল রাখা হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়। তাঁদের দাবি, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল বলেই একক বেঞ্চ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। ফলে ডিভিশন বেঞ্চের রায় পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।মার্চের প্রথম সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে সুপ্রিম কোর্টে।


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় প্রথমে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল শীর্ষ আদালতও। পরে প্রাথমিক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। মামলা ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে। একক বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে যায়। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে রাজ্য ও পর্ষদ উভয় পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে যায়। শীর্ষ আদালত মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়ে নির্দেশ দেয়, দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় দিক। সেই প্রেক্ষিতেই আবার আইনি লড়াইয়ের নতুন পর্ব শুরু হল।শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করা হল। ভোটের আগে এই মামলায় নতুন করে এসএলপি দায়ের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সুপ্রিম কোর্টে এখন কী হয়, সেটাই দেখার।

Previous article‘আমি যুদ্ধ না থামালে মারাই যেতেন প্রধানমন্ত্রী শরিফ’, শাহবাজের আত্মসমর্পণ নিয়ে নয়া দাবি ট্রাম্পের
Next article‘বাংলায় ১.২০ কোটি লোকের নাম বাদ যাবে’, SIR তালিকা নিয়ে নতুন আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here