Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি দেবী, শোকের ছায়া মতুয়া মহাসঙ্ঘে

deshersamay

Share article:

দেশের সময় : মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর জীবনাবসান। মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সূত্রে খবর, বুধবার সকালে এসএসকেএম থেকে বের করা হবে বড়মার মরদেহ। ১৯১৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন বীনাপাণি দেবী। তারপর দেশভাগের সময় চলে আসেন ঠাকুরনগরে।

এসএসকেএম-এর সুপার রঘুনাথ মিশ্র মঙ্গলবার সকালেই জানিয়েছিলেন, বড়মার অবস্থা সংকটজনক। ১০০ শতাংশ ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, একাধিক অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তাঁর। ফুসফুসে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। ক্রমশ বাড়ছিল রক্তচাপও। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধেবেলা মারা যান বড়মা।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার প্রথমে বীণাপাণি দেবীকে ভর্তি করা হয় কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। তখনই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন বুকে কফ জমেছে বড়মার।এ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে তাঁর। ভর্তির পরের দিনই অর্থাৎ শুক্রবার সকালে বসানো হয় মেডিক্যাল বোর্ড। ১২ জন ডাক্তারের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়।

সোমবার রাত থেকে ১০০ শতাংশ ভেন্টিলেশনে ছিলেন বীণাপাণি দেবী।এর আগে বাইপ্যাপ সাপোর্টে ছিলেন বড়মা বীণাপাণি দেবী। কিন্তু বাইপ্যাপ কাজ না করায় মঙ্গলবার সকালে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। এ দিন সকাল থেকেই তিন দফায় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা করেন বীণাপাণি দেবীকে। পাঁচ সদস্যের ওই মেডিক্যাল বোর্ড তিন দফায় নিজেদের মধ্যেও আলোচনা করে। তারপরেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, ভেন্টিলেশন ছাড়া কোনওভাবেই রাখা সম্ভব নয় বড়মাকে। কারণ দু’টি ফুসফুসেই মারাত্মক ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছে তাঁর।

মঙ্গলবার রাত ৮টা ৫২ মিনিটে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়।তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ বড়মার দেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঠাকুরনগরে। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র এসএসকেএমে এসে উপস্থিত হন। হাসপাতালে ভীড় করেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের অনুগামীরা। এদিন সন্ধের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দেখে আসেন।বড়মার এক পুত্রবধু মমতাবালা ঠাকুর এখন সাংসদ। বড়মার জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে। তাঁর স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুর কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন।

এদিনই সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে সোজা এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড়মাকে দেখে আসেন। সেই সময় সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘‌ওঁনার অবস্থা সঙ্কটজনক। ডাক্তাররা দেখাশুনা করছেন। গত ২০ বছর ধরে যখন বড়মাকে কেউ বড়মা বলে জানত না। কেউ খোঁজ খবর রাখত না। বাড়িতে কেউ যেত না। ২০ বছর ধরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মমতা বালা ঠাকুরকে নিয়ে বড়মার চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরাই করে আসছি। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বড়মাকে সাহায্য করে এসেছি। বড়মাকে প্রথমে কল্যাণী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএমে। আমি মনে করি এই হাসপাতাল ওয়ান অফ দ্য বেস্ট হাসপাতাল, সব থেকে উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এখানে। যেহেতু তাঁর বয়স ১০০ বছর হয়ে গেছে। আমরা ব্যবস্থা এরকম করেছিলাম যাতে উনি বাড়িতে থাকেন, কাঁচের ঘরে রাখার ইচ্ছা ছিল। আমি চেয়েছিলাম যতদিন বাঁচবেন ততদিন যাতে ভালভাবে বাঁচেন।’‌মমতা বলেন, ‘‌সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে, রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন, ফুসফুসে সংক্রমণে অসুস্থ বীণাপাণি দেবীকে প্রথমে কল্যাণীর জওহরলাল নেহেরু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানে থেকে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। তৈরি করা হয় মেডিক্যাল বোর্ডও। তবুও শেষরক্ষা হল না।

আমি মনে করি এই হাসপাতাল ওয়ান অফ দ্য বেস্ট হাসপাতাল, সব থেকে উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এখানে। যেহেতু তাঁর বয়স ১০০ বছর হয়ে গেছে। আমরা ব্যবস্থা এরকম করেছিলাম যাতে উনি বাড়িতে থাকেন, কাঁচের ঘরে রাখার ইচ্ছা ছিল। আমি চেয়েছিলাম যতদিন বাঁচবেন ততদিন যাতে ভালভাবে বাঁচেন।’‌মমতা বলেন, ‘‌সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে, রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন।

মাস চারেক আগে বড়মা বীণাপাণি দেবীর শতবর্ষ পালনে ঠাকুরনগরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর দিনকয়েক আগে ঠাকুরনগরের মতুয়া মহাসংঘের আমন্ত্রণেই এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।পায়ের কাছে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে বড়মার আশীর্বাদও নিয়েছিলেন মোদী।

বড়মার মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীনাপাণি দেবীর পরিবার এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সকলের উদ্দেশে সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বড়মা বীনাপাণি দেবীর প্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ।” এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুটের মাধ্যমে বড়মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। গোটা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন রাজ্যের ছ’জন মন্ত্রী।

এদিন মমতা আরও বলেন সব ব্যবস্থার তদারকি করে আমি সবে হাসপাতাল থেকে বেরোলাম। ছ’জন মন্ত্রী ওনার শেষকৃত্য সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্বে আছেন। আগামীকাল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, গান স্যালুট দিয়ে ওনার শেষকৃত্য হবে। ওনাকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দিতে পেরে আমরা গর্বিত। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি ।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঠাকুর নগর ঠাকুর বাড়ীতে গিয়ে দেখা মিলল এক ভক্ত আশীষ বিশ্বাসের সঙ্গে,তিনি বলেন বড়মা চলে গেলেন, আমরা তাঁর সন্তান মনে হচ্ছে অনাথ হয়ে গেলাম। নিস্তব্ধ ঠাকুর বাড়ীই শুধু নয় গোটা দেশ জুড়ে মতুয়া সঙ্ঘে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মতুয়া ভক্তরা ঠাকুরনগর ঠাকুর বাড়ীতে ভীড় করেছেন, তাঁদের পূজনীয় বড়মাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন