Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

পেট্রাপোল স্থল বন্দরে ৩৯ জন বিহারের শ্রমিক সহ বিএসএফ জওয়ানদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন বনগাঁর ব্যাবসায়ীরা

deshersamay

Share article:

দেশের সময়, বনগাঁ: লকডাউন উপেক্ষা করে হেঁটেই বনগাঁ থেকে বিহারের বাড়িতে ফিরেযাবেন মন স্থির করে ফেলে ৩৯ জনের একটি দল।আর সেই মত তাঁরা মুখে মাস্ক,পীঠে প্রয়োজনীয় জিনিস বোঝাই ব্যাগ কাঁধে নিয়ে গত বুধবার সকালে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে রেল পথ ধরে বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা ৷পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে তাঁরা পৌঁছেছেন প্রথমে বনগাঁ শহরের রেল ষ্টেশনএলাকায়। সেখান থেকে ফের রেললাইন ধরে তাঁরা শিয়ালদহের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ওই মানুষদের বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার বিভূতিভূষণ হল্ট স্টেশনে আটকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এরা সকলেই শ্রমিক। বাড়ি বিহারের বিভিন্ন এলাকায়। তাঁরা সকলেই পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় সুসংহত চেকপোস্টে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে এসেছিলেন অনেক দিন আগেই। লকডাউনের জেরে তাঁদের কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁরা সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছেন। শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের হাতে টাকা নেই। ঠিক মতো খাওয়া জুটছে না। সে কারণেই তাঁরা বিহারে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন।
পুলিশ তাঁদেরকে বিভূতিভূষণ হল্ট স্টেশন থেকে উদ্ধার করে তাঁদের বুঝিয়ে ফের পেট্রাপোল বন্দরে নিয়ে আসে। । প্রথমে পুলিশের তরফে তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকেরা জানতেন না লকডাউন এখনও চলছে। তাঁরা ভেবেছিলেন শিয়ালদহ থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন পাওয়া যাবে। তাই তাঁরা এ দিন হেঁটেই শিয়ালদহ পৌঁছতে চেয়েছিল।

পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন,পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় ট্রাক থেকে পণ্য ওঠানো নামানোর কাজে যুক্ত রয়েছেন প্রায় দেড়শো শ্রমিক। বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া ভিন রাজ্য থেকে পণ্য নিয়ে বন্দরে এসে আটকে পড়েছেন ৩৫ জন ট্রাক চালক-খালাসি। সকলেই কমবেশি খাবারের সমস্যা রয়েছে। আমাদের সংগঠন সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হচ্ছে।

আটকে পড়া কাজ হারানো ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের সেন্ট্রাল ওয়্যার হাউজ কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের তরফে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ ১৯৭০ সাল থেকে বিহারের শ্রমিকেরা এখানে পণ্য ওঠানো নামানোর কাজ করেন। অনেকই পেট্রাপোল-বনগাঁয় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়েও বসবাস করেন। সকলের এখন রোজগার বন্ধ।

বনগাঁর পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্য বলেন, ‘‘বনগাঁয় থাকা ভিন রাজ্যের প্রায় ৩০০ শ্রমিককে আমরা পুরসভার তরফে চাল, ডাল, আলু, তেল দিয়ে সাহায্য করেছি। আগামীদিনেও করব।’’ পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘জেলা পুলিশের তরফে রোজ পেট্রাপোল থানাকে ১০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। আটকে পড়া চালক-খালাসি শ্রমিকদের খাওয়ার অসুবিধা হবে না।’’ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার বাইরে থাকা শ্রমিকদের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘‘যে যেখানে রয়েছেন থাকুন। এখন ফিরতে হবে না।’’ এ দিন ফেরার চেষ্টা করা শ্রমিকেরা অবশ্য সে কথা জানেন না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

শুক্রবার সকালে বনগাঁর ৪ জন ব্যাবসায়ী একত্রিত হয়ে ৩৯ জন বিহারি শ্রমিক সহ বিএসএফ জওয়ানদের হাতে আটা, সবজী সহ বিভিন্ন রকম খাদ্য সামগ্রী তুলেদেন৷ব্যাবসায়ীদের পক্ষে প্রদীপ দে বলেন,শুধু বিহারি শ্রমিক নয় ভিন রাজ্যের ট্রাক চালক এবং খালাসিদের কেও এদিন সামর্থ মতো খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে,প্রয়োজনে আগামীদিনেও আরও সাহায্য করা হবে স্থল বন্দরের শ্রমিকদের জন্য৷ এদিন উপস্থিত ছিলেন পেট্রাপোল থানার ওসি ,তিনি সব সময় সমস্ত শ্রমিকদেরকে কড়া নজরে রেখেছেন যাতে কারও কোন সমস্যা না হয়৷

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন