Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

দু-তিন মাসের মধ্যে সব পুরভোট করিয়ে দেব, টাকা লাগলে ম্যাজিশিয়ান তৈরি করুন প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

deshersamay

Share article:

দেশেরসময় ওয়েবডেস্কঃ সব পুরসভায় কবে কী ভাবে ভোট হবে তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবারও শুনানি ছিল। আবার আগামী শুক্রবার সেই শুনানি হবে। এর মধ্যেই এদিন দুপুরে কর্ণজোড়ায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ,সব ভোট দু’তিন মাসের মধ্যে হয়ে যাবে।

এদিন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক বিপ্লব মৈত্রকে মমতা জিজ্ঞেস করেন, পুর ভোট আসছে। সব ঠিক আছে তো? জবাবে বিপ্লব বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুরের দুটি পুরসভার ভোট হবে। ভালই হবে। তখন জল খেতে খেতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দু’তিন মাসের মধ্যে সব করে দেব।”

রাজ্যে ১১২টি পুরসভা-কর্পোরেশনের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতার ভোট ঘোষণা হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, কেন শুধুমাত্র কলকাতার ভোট হবে? সব ভোট একসঙ্গে করতে হবে। এই নিয়েই মামলা চলছে হাইকোর্টে। তার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এরমধ্যেই এদিন মমতা জানিয়ে দিলেন, দু’দিন মাসেই সব ভোট করিয়ে দেব।

যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়, সব পুরসভায় ভোট করানোর মতো পরিকাঠামো তাদের হাতে নেই৷ সব পুরসভায় একসঙ্গে ভোট করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম-ও নেই কমিশনের হাতে৷ পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে একশোর বেশি পুরসভায় ভোট করানো ঝুঁকিপূর্ণ বলেও আদালতে জানিয়েছে কমিশন৷ এ ছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা৷ কমিশন আরও যুক্তি দিয়েছে, একসঙ্গে একশোর বেশি পুরসভায় ভোট হলে গোটা রাজ্যেই উন্নয়নমূলক কাজকর্ম আদর্শ আচরণবিধির কারণে বন্ধ হয়ে যাবে৷

প্রত্যাশিত ভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি৷ বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘তুঘলকি সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেও শাসক দলের ‘শাখা সংগঠন’ বলে বেঁধেন তিনি৷

এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে কেউ চাইলেন কলেজ, কেউ বা অন্য কিছু।কিন্তু দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখন সরকারের হাত টান আছে। দু’বছর কিচ্ছু চাইবেন না।

কেন? তারও ব্যাখ্যা দেন মমতা। এদিন জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যতই দাও শুধু চাই, কাজের বেলা কিছু নাই। জিতে গেছেন, ভাল করে কাজ করুন। শুধু দাও দাও করলে হবে? টাকাটা আসবে কোথা থেকে? একবারও ভেবেছেন? জানেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কত টাকা খরচ হচ্ছে? সেই টাকা তো আমাদেরই জোগাড় করতে হচ্ছে! দু’বছর এখন কিচ্ছু চাইবেন না!”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও বলেন, সব কাজই মোটামুটি সরকার করে দিয়েছে। বিধায়কদের এখন কাজ হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা। দু’বছর কিচ্ছু চাওয়া যাবে না। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমরা ম্যাজিশিয়ান তৈরি করো। সে তোমাদের টাকা দিয়ে দেবে!”

জেলা চেম্বার অফ কমার্সের এক প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ইথানল তৈরির কারখানা করার জন্য এক শিল্পপতি চারশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। যদি বিদ্যুতের রেটটা একটু কমিয়ে দেওয়া যায়!

শুনেই রেগে যান মমতা। বলেন, “আপনি কি চান সরকার ভিখারি হয়ে যাক? বিদ্যুতের জন্য সরকারকে অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। আর পারবে না। শুধু সরকারের থেকে নেওয়ার ধান্দা!”

আবার এও ঠিক দিদি সবাইকে বকুনি দেননি। যেমন কুশমুন্ডির বিধায়ক নমিতা রায় মুখ্যমন্ত্রীর থেকে একটি কমিউনিটি সেন্টার আবদার করেন। কিন্তু মমতা তাঁকে ফেরাননি। এই প্রথম বামেদের হাত থেকে ওই আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল।

১৯৭৭ সাল থেকে এই আসন ছিল আরএসপি-র দখলে। ফলে দিদি বোধহয় সেকারণেই কুশমুন্ডির বিধায়ককে ফেরালেন না। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকে বলেন, একটি কমিউনিটে সেন্টার গড়ে দেওয়ার বিষয়ে দেখতে। তবে মমতার বক্তৃতায় এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, নবান্নের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাড়ন্ত।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা নিয়ে বিজেপির এক নেতা বলেন, “ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে গিয়ে দিদিমণি কাকুতিমিনতি করেছিলেন। কিন্তু যেই ভোট হয়ে গিয়েছে, এখন বলছেন টাকা নেই!”

Advertisement
Tags: featured

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন