

বঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ বিজেপির। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বাংলায় এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই চার্জশিট পেশের পর প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের মানুষের উদ্দেশে পরিবর্তন আনার পক্ষে সওয়াল করেন। বাংলায় পরপর মোদীর সভা রয়েছে। ৯ এপ্রিল হলদিয়াতে সভা করতে পারেন মোদী। এরপর ১২ এপ্রিল ফের শিলিগুড়িতে সভা রয়েছে মোদীর।


রাজবংশী গড় কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে রবিবার বাংলার ভোটপ্রচার (West Bengal Assembly Election 2026) শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। একদিকে যখন মালদহের (Malda Kaliachak Incident) কালিয়াচকে বিচারকদের ‘বন্দি’ করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গেছে, ঠিক তখনই সেই ক্ষতয় নুন ছিটিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে (TMC) বেনজির আক্রমণে বিঁধলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, মালদহে যা ঘটেছে তা কেবল বিশৃঙ্খলা নয়, ওটা ছিল তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত মহাজঙ্গলরাজ’।

মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘‘গোটা দেশ দেখেছে, কী ভাবে কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল। এটা কেমন সরকার, যেখানে বিচারপতি এবং সংবিধানও সুরক্ষিত নয়?’’ মোদীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই হামলা আসলে সংবিধানের গলা টিপে ধরার সামিল। তাঁর দাবি, তৃণমূলের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং এর লক্ষ্য ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘ভাবুন এটা কেমন সরকার, কেমন ব্যবস্থা? বিচারকদের আটকে রেখেছে। সংবিধানের প্রক্রিয়া পর্যন্ত এখানে সুরক্ষিত নয়। মালদায় যা হয়েছে, তা তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজের উদাহরণ। এখন অবস্থা এতই খারাপ যে দেশের শীর্ষ আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। তৃণমূল বাংলায় আইনকানুন শেষ করে দিচ্ছে।’ প্রশ্ন তোলেন, এই সরকার বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কী করে?
সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে বাংলা থেকে বের করবে বিজেপি। সুশাসনকে সঙ্গী করে আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার ডাক মোদীর। তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক, আইনের উপরে ভরসা রাখবেন। এই ভোটে বাংলা থেকে ভয় পালাবে। বিজেপির মহাজয়ে ভরসা জাগবে। এই ভোটের পরে এদের পাপের হিসেব হবে। চুন চুন কে হিসাব কিয়া জায়েগা। ৪ মে-র পরে আইন নিজের কাজ করবে। যত বড় গুন্ডাই হোক না কেন, এ বার বিচার হবে।’

অন্যদিকে, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাত বিচারককে সাড়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘মূলচক্রী’ মফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পেশায় আইনজীবী মফাক্কেরুলকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় পাকড়াও করা হয়। আপাতত তিনি ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, মফাক্কেরুলই সেই রাতে ভিড়কে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন।
https://x.com/i/status/2040749041781457140
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা এবং নির্দেশ মেনে এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পা রাখেন এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং। তাঁর নেতৃত্বেই ২৪ জনের একটি বিশেষ দল মালদহে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিস ও মোথাবাড়ি থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিচারকদের ওপর এই হামলা বা ঘেরাওয়ের পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা বড় কোনও সংগঠনের হাত ছিল কি না।

মোদীর এই সফর এবং মালদহ-কাণ্ডে এনআইএ-র সক্রিয়তা— দুই মিলিয়ে বাংলার বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপট এখন তপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর ‘মহাজঙ্গলরাজ’ মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার। এদিন বক্তব্যের একেবারে শুরুতেই বাংলায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কোচবিহারের সবাইকে আমার নমস্কার জানাই।’ এর পরেই বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি কলকাতার ব্রিগেডে সভা করার পর থেকেই তৃণমূলের সিন্ডিকেট ভীত। ব্রিগেডে যে বিউগল বেজেছে, কোচবিহারের সভায় তাতেই সিলমোহর পড়ল। তৃণমূলের পাপের ঘড়া ভরে গিয়েছে। গোটা বাংলায় একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’
এদিন বক্তব্যের একেবারে শুরুতেই বাংলায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কোচবিহারের সবাইকে আমার নমস্কার জানাই।’ এর পরেই বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি কলকাতার ব্রিগেডে সভা করার পর থেকেই তৃণমূলের সিন্ডিকেট ভীত। ব্রিগেডে যে বিউগল বেজেছে, কোচবিহারের সভায় তাতেই সিলমোহর পড়ল। তৃণমূলের পাপের ঘড়া ভরে গিয়েছে। গোটা বাংলায় একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’




