চাকরিপ্রার্থীরা পাবেন ওএমআর শিটের কার্বন কপি , নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
deshersamay


স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য বিধানসভায় আনা হচ্ছে নতুন আইন। শনিবার শিয়ালদহে রোজগার মেলা থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ সংক্রান্ত পলিসির জন্য যে নতুন আইন করা দরকার, আমরা আগামী বিধানসভা অধিবেশনে তা করব। OMR কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেবো। সেই নিয়ম আছে। পশ্চিমবঙ্গে ওরাল (Viva Exam) পরীক্ষায় সব থেকে বেশি নম্বর রাখা হয়েছে। এটা ঠিক নয়। এখানে ন্যূনতম নম্বর রাখা উচিত। আমরা চাই ওরালের নম্বরটা একটু কম করে স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে আগামিদিনে নিয়োগ হয়।’

রাজ্যের নতুন সরকারের তরফে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চাকরির পরীক্ষাকে ঘিরে নানা অভিযোগ এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফেরানো এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, সরকারি চাকরির পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হয়। তখন তাঁকে জানানো হয়, পরীক্ষাগুলি ওএমআর পদ্ধতিতে হলেও পরীক্ষার্থীদের হাতে কার্বন কপি তুলে দেওয়া হয় না। সেই ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর কথায়, “যে পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন, তাঁর নিজের উত্তরপত্রের প্রতিলিপি হাতে থাকা উচিত। কার্বন কপি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকেই স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগের জন্ম হয়েছে। তাই এই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”

তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন নিয়োগ নীতিতে ওএমআর কার্বন কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি নিয়োগের পুরো পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ করতে লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বণ্টন নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা চলছে।
বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতা নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। সেই কারণেই মৌখিকের গুরুত্ব কমানোর দিকেই ঝুঁকছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ এবং যাচাইযোগ্য করার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, এদিনের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক আক্রমণও শানান শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, আগের আমলে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং সেই কারণেই গোটা দেশের সামনে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকার শুধু কেন্দ্রীয় নীতিকেই অগ্রাহ্য করেনি, সংবিধানের মূল ভাবনাকেও উপেক্ষা করেছে। নিজেদের ইচ্ছামতো প্রশাসন পরিচালনার ফলেই সাধারণ মানুষ এবং হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে স্বচ্ছ, স্বাভাবিক এবং জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই নতুন আইন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই সেই সংক্রান্ত আইন আনা হতে পারে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যু গত কয়েক বছরে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সেই আবহে ওএমআর কার্বন কপি বাধ্যতামূলক করা এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারের এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

Leave a Reply