

দেশের সময় : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার ঠিক ৪৮ ঘণ্টার পর মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা(TMC Candidate list 2026) ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবারের প্রার্থী তালিকায় নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে বেশ কিছু নতুন মুখকে প্রার্থী করা হয়েছে।

দলের পুরোনো সহযোগী, একনিষ্ঠ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে মাপকাঠি করেই ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার উপরে জোর দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনগাঁ দক্ষিণ ও বাগদার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দিলেও উত্তর ২৪ পরগনায় মোটের উপর পুরোনো মুখেই আস্থা রেখেছে তৃণমূল। কালীঘাটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বনগাঁ থেকে দেগঙ্গা, হাবরা থেকে মধ্যমগ্রাম, তৃণমূলের প্রার্থীরা ভোট প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।

বারাসত বিধানসভায় গত তিন টার্মের বিধায়ক ছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। এ বার তারকাকে ছেড়ে পুরোপুরি দলীয় সংগঠনের দক্ষতার উপর ভরসা রেখে বারাসতে সব্যসাচী দত্তকে প্রার্থী করেছে দল। মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে গত ২০১১ সাল থেকে বিধায়ক রথীন ঘোষ। কংগ্রেস পরিবার থেকে উঠে আসা রথীন তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন।

পুরসভা পরিচালনা কিংবা দলের সাংগঠনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে মধ্যমগ্রাম–সহ জেলার সর্বত্র রথীনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রথীন জানান, ‘আমার উপর আস্থা রাখার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। আশা করব মধ্যমগ্রামের মানুষ আমাকে পুনর্নির্বাচন করবেন।’


বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিশ্বজিৎ দাসকে প্রার্থী করেছে দল। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক ছিলেন তিনি। মাঝে কিছুদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। পরে তৃণমূলে ফিরে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও তিনি। ফলে সাংগঠনিক দক্ষতার উপরে ভরসা রেখেই বনগাঁ উত্তর থেকে বিশ্বজিৎকে প্রার্থী করেছে দল। বিকেলেই বনগাঁর পার্টি অফিস থেকে দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। মতুয়া অধ্যুষিত গাইঘাটা থেকে নরোত্তম বিশ্বাসকে প্রার্থী করেছে দল। ২০২১ সালে সুব্রত ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে ভোটে হেরে যান তিনি। দেখুন ভিডিও

বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য। বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যর মেয়ে ঋতুপর্ণার মা জ্যোৎস্নাও পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। ফলে রাজনীতির পরিবার থেকেই উঠে আসা ঋতুপর্ণার। তিনি বলেন, ‘বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক কোনও কাজ করেননি। সবাইকে নিয়ে ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে হটাতে পারব।’ বাগদা উপনির্বাচনে জিতেই রাজ্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির মতুয়া প্রতিনিধি মধুপর্ণা ঠাকুর। এ বারেও তাঁর উপরে আস্থা রেখেছে দল। মধুপর্ণা বলেন, ‘বারুনি মেলার পুণ্য দিনেই দল আমাকে ফের প্রার্থী করেছে। সার নিয়ে যে ভাবে বাগদার মতুয়াদের হেনস্থা করা হয়েছে, তার জবাব মতুয়ারা দেবেন।’

২০০১ থেকে ২০১১ এই দুই টার্মে গাইঘাটা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ২০২১ থেকে তিনি হাবরার বিধায়ক। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। অবিভক্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় তাঁর চোখ দিয়েই জেলার সংগঠন দেখতেন মমতা। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন বালু। রেশন দুর্নীতিতে জেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত দক্ষতার মাপকাঠিতেই হাবরা থেকে ফের জ্যোতিপ্রিয়কেই প্রার্থী করেছে দল। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘হাবরার মানুষ আমাকে ঘরের ছেলের মতো ভালবাসেন। আমি নিশ্চিত এ বারেও কেন্দ্রের ভোটারদের আশীর্বাদ করবেন।’

অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নারায়ণ গোস্বামীকেই ফের প্রার্থী করেছে দল। তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতিও। প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। দেগঙ্গায় রহিমা মণ্ডলের পরিবর্তে এ বার আনিসুর রহমান বিদেশকে প্রার্থী করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে আনিসুর এই প্রথম প্রার্থী হয়েছেন। ব্লকের সংগঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতা রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। আনিসুর বলেন, ‘দল আমাকে প্রার্থী করে যে আস্থা রেখেছে, তার মর্যাদা রাখব।’ আমডাঙা থেকে নতুন মুখ কাশেম সিদ্দিকি।




