দেশেরসময়ওয়েবডেস্কঃ আদালতে টানাপোড়েনের পর ভাটপাড়া পুরসভায় তৃণমূলের জয়কেই সিললোহর দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার সেই ভাটপাড়া পুরসভাতেই নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন সেরে ফেলল তৃণমূল।

ভাটপাড়া পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান হলেন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত। চেয়ারম্যান হয়েই তিনি বলেন, “অচল পুরসভাকে সচল করাই একমাত্র কাজ।” তাঁর কথায়, “গত সাত-আটমাসে বিজেপি দখল করে রেখে গোটা পুরসভাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কোনও কাজ হয়নি। পুরকর্মীদের বেতন, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন, সাধারণ মানুষের পরিষেবার কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এবার সেগুলিকেই জোরকদমে করতে হবে।”

যদিও তৃণমূলের এই ভাটপাড়া জয়কে ‘তিন মাসের আনন্দ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, “আর তিন মাস বাদেই ভাটপাড়া পুরসভার ভোট হবে।তখন আমরাই জিতব। তৃণমূলের এই আনন্দ তিন মাসের।”

ভাটপাড়া পুরসভা দখলে নিতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয়নি বিজেপিকে। অর্জুন সিং-এর দাপটে জোড়াফুল বদলে রাতারাতি পদ্মফুল হয়ে গিয়েছিল। লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর সময়ে নিজে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে সেই চেয়ারে বসিয়ে এসেছিলেন ভাইপো সৌরভ সিংকে। কিন্তু হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, বনগাঁর মতো অর্জুন-দুর্গের ভাটপারা পুরসভাও হাতে রাখতে পারল না বিজেপি।

ভাটপাড়া পুরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৫টি। অর্জুন সিং সাংসদ হওয়ার পর কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মৃত্যু হয়েছে ভীম সিং নামের এক কাউন্সিলরের। একটি ওয়ার্ড দখলে রয়েছে বামেদের। ফলে বোর্ড গড়তে দরকার ছিল ১৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থন। পাঁচজন কাউন্সিলর দল বদল করেননি। তাঁরা তৃণমূলেই রয়ে গিয়েছিলেন। মাঝে পুরনো দলে ফেরেন ১২জন কাউন্সিলর। ফলে যে সংখ্যা দরকার বোর্ড গড়ার জন্য সেটা আগেই জোগাড় করে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিকরা। পরে আরও দু’জন গেরুয়া সঙ্গ ত্যাগ করে ফিরে আসেন তৃণমূলে। সেই ১৯ নিয়ে ভাটপাড়া দখল করে তৃণমূল।

সেই আস্থা ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও কম নাটক হয়নি। প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই আস্থাভোটকে খারিজ করে দিলেও পরে ডিভিশন বেঞ্চ তাতে সিলমোহর দেয়। এদিন নির্বাচিত হলেন চেয়ারম্যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here