দেশেরসময়:–আক্ষরিক অর্থেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে হতে যাচ্ছে এ রাজ্যের শেষ পর্বের ভোট।অমিত শাহের রোড শো নিয়ে শহর জুড়ে যে ধুন্দুমার কান্ড ঘটে গেছে,তারপর বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে যে চাপান-উতোর বিজেপি ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে হয়ে গেল,তাতে উত্তেজনার চরম পর্যয় রয়েছে যুযুধান দু পক্ষই।

বসিরহাট জুড়ে উত্তেজনা,ডায়মন্ড হারবার জুড়ে হোটেলে হোটেলে বাইরে থেকে সশস্ত্র দুষ্কৃতী এনে মজুত রাথা,এলাকায় এলাকায় ভোটারদের ভোটের বুথে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া সব নিয়ে একেবারে বারুদের স্তুপ হয়ে রয়েছে ১৯ ্লিতারিখের নির্বাচন পর্ব।তৃণমূল ও বিজেপি দুপক্ষের কাছেই এটা মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের সামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুপক্ষই শেষ দেখে ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।শেষ পর্বে এ রাজ্যে এসে কমিশনের দিকে তোপ দেগেছেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ,তাঁর মতে এ রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা একেবারে ভেঙে পড়েছে,তাঁর রো়ড শো চলাকালীন এ রাজ্যের শাসক দলের গুন্ডারা অমিত শাহকে আক্রমণ করতে চেয়েছিল বলে অমিত শাহের অভিযোগ।শুধু তাই নয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অভিযোগ করেন,কমিশনকে বার বার বলা সত্ত্বেও কমিশন শাসক দলের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি।

কমিশনের কার্যত এ রাজ্যে কোন ভূমিকাই তারা দেখতে পারছেন না বলে অমিত শা অভিযোগ করেন।এর পরেই নড়েচড়ে বসে কমিশন,নজিরবিহীনভাবে এ রাজ্যে সংবিধানের ৩২৪ ধারা ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচনী প্রচার একদিন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শুধু তাই নয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র-সচিবকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়,বিতর্কিত আইপিএস অভিসার যিনি মুখ্যমন্ত্রীর কথায় নানা আইন বিরোধী কাজকর্ম করতে সিদ্ধহস্ত বলে অভিযোগ,সেই রাজীবকুমারকে এ রাজ্য থেকে সরাসরি সরিয়ে দিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।আর এর পরেই রাজ্যের শাসক দল ও কমিশনের সংঘাত চরম আকার নেয়।

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ কমিশন বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।পাল্টা দিতে ছাড়ছেন না বিজেপির নেতারাও।মকুল রায় ও শমিক ভট্টাচার্যের মত বিজেপি নেতাদের গাড়ি ভেঙে ও তাঁরা যে বাড়িতে সামাজিক সৌজন্যের খাতিরে গেছিলেন সেখানে তৃণমূল গুন্ডাদের আক্রমণের ঘটনায় এরাজ্যে যে আইনের শাসন বলে কিছু নেই তা জানিয়ে আবার কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতারা।মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষাতে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন,কখোন তুই,কখোন ধেড়ে খোকা,কখোন কান ধরে উঠবোস করাবো বলে হুমকি,তা থেকে পরিষ্কার উত্তেজনার পারদ একেবারে চরম আকার নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীও হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন এ রাজ্যে তিনি পিসি-ভাইপোর (বুয়া-ভাতিজা)জমিদারি চলতে দেবেন না,পরোক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপোকে চিটফান্ডের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে জেলে ভরার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।তাই কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়াতে নারাজ।বিজেপি প্রধানম্ত্রী ও অমিত শাহকে এখানে এনে প্রচারে যে দামামা বাজিয়েছে তাতে এ রাজ্যের অন্য দুই বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেস একেবারে কোণঠাসা হয়ে গেছে।

ফলে বিরোধী সব ভোট এবার বিজেপির বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে,আর তাতেই তৃণমূল ভয় পেয়েছে।উন্নয়নের কিছু কাজ করলেও রাজ্য জুড়ে যে স্বজনপোষণ,গুন্ডাগিড়ি,কাজ ও চাকরীর সমস্যা তাতে যে এ রাজ্যের শাসক দলকে বিপদে পড়তে হতে পারে তা ভেবেই বল প্রোয়োগের পথে হাঁটতে চলেছে শাসক তৃণমূল।এখন পর্যন্ত যা খবর তাতে ডায়মন্ড হারবার ও দমদমে প্রচুর সশস্ত্র দুষ্কৃতী মজুত করা হয়েছে।

শাসক দলের হয়ে এরা এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি করবে ভোটের দিন,তার যাবতীয় নক্সা তৈরি করা হয়ে গেছে।বসে নেই বিজেপিও তারাও বাহিনীকে দিয়ে এবিষের মোকাবিলা করবে বলে ঠিক করে রেখেছে।কোথায় কোথায় দুষ্কৃতী জড় হচ্ছে তা নজরে রাখছে বিজেপিও,তাদের ও কিছু লেঠেন বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীও মজুত থাকবে।সব মিলিয়ে এ রাজ্যের সপ্তম দফার ভোট যদি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে তাতেও আশ্চর্য কিছু থাকবে না।

কমিশন যে গোটা বিষয়টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না তা বলাই বাহুল্য,শেষ পর্যন্ত তাই আর কিছু প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছেই।ভয়াবহ এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে যে এ রাজ্যের শেষ দফার নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।এখন প্রশ্ন হল এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কতটা হিংসাত্মক ও প্রাণঘাতি হয়ে ওঠে তা নিয়েই।

আমরা কী এ রাজ্যের শেষ পর্বে আর একটা রক্তাক্ত ও হিংস্র নির্বাচন দেখতে চলেছি.তা নিয়ে আশঙ্কা থাকছেই।যেভাবে বিজেপি ও তৃণমূল হিংসা ও বদলার রাজনীতি নিয়ে সোচ্চার তাতে গণতন্ত্র আর মানুষের মতদানের উতসব থাকবে বলে মনে হয় না,হয়ে উঠতে পারে হানাহানি আর জিঘাংসার প্রকাশক্ষেত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here