

অন্তর্বর্তী বাজেটে ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকারদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে এই ভাতা পেতে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। কবে থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, মঙ্গলবার নবান্ন থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘যুবসাথী প্রকল্প’টি আগামী ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানান, আর্থিক বছরের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছে ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী খোলসা করে এও জানিয়ে দেন, মাধ্যমিক পাশ করা যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় যে ভাতা পাবেন, তা তাঁদের প্রাপ্য অন্য কোনও স্কলারশিপে প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ, ‘যুবসাথী’ অন্য বৃত্তির সঙ্গে সমান্তরালভাবেই চালু থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঐক্যশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম স্কলারশিপ, শিক্ষাশ্রী, স্মার্ট কার্ড যাই পাক না কেন, সেগুলোর সঙ্গে এটা কোনও এফেক্ট করবে না। কিন্তু অন্য কোনও স্কিমে যদি তারা টাকা না পায় তাহলে তারা দেড় হাজার টাকা করে আগামী পাঁচ বছর পাবে। তারপর আবার রিভিউ হবে যতদিন তারা চাকরি না পাচ্ছেন।”

মমতা জানান, আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ক্যাম্প চালু করা হবে। ক্যাম্প চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত। সময়, সকাল দশটা থেকে বিকাল ৫ টা। এই ক্যাম্পগুলিতেই সরাসরি আবেদন করতে পারবেন উপভোক্তারা। অনলাইনের ক্ষেত্রে ঝাড়াইবাছাইয়ের ঝামেলা এড়াতেই এই ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সঙ্গে এও বলেন, প্রতিটা ক্যাম্পে তিনটে করে দফতর থাকবে। ক্রীড়া যুব কল্যাণ (যুবসাথীর জন্য), মাইনর ইরিগেশন (ভূমিহীন খেত মজুরদের জন্য। তারা ওই ক্যাম্পে এসে নাম লেখাবেন। বছরে দু’বার দু’হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া যাঁদের ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা দিতে হয় সেচের জলের জন্য, বিদ্যুৎ দফতরকে দিতে হত; সেটাও ফ্রি করে দেওয়া হল। এক্ষেত্রে যাঁরা ২০০০ টাকা লিমিটের মধ্যে আমাদের কাছে আবেদন করবেন, তাঁদের জন্যেও ওই ক্যাম্পে বিদ্যুৎ দফতরের লোক থাকবে।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন উৎসব এবং সম্ভাব্য নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রমজান, হোলি, ইদ, পয়লা বৈশাখ— সব উৎসবই চলবে। তার মধ্যে যদি নির্বাচন আসে, নির্বাচনও তার নিজের নিয়মে চলবে।”

‘যুব সাথী’ প্রকল্পের শুরু নিয়ে হালকা রসিকতাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “১ এপ্রিল থেকে শুরু করছি। পয়লা এপ্রিল মানেই এপ্রিল ফুল— কিন্তু আমরা এখানে কোনও এপ্রিল ফুল বলছি না।”
ভোটের মুখে রাজ্য বাজেট মানেই জনমুখী ঘোষণার ঝাঁপি। এ কথা নতুন নয়। এ বার সেই ঝাঁপির মধ্যেই নতুন ঘোষণা মাধ্যমিক পাশ করা বেকারদের হাতে দিনে ৫০ টাকা, অর্থাৎ মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা।

বাজেট অনুযায়ী, মাধ্যমিক পাশ করা পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হবে। একটানা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে কেউ চাকরি পেয়ে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উচ্চশিক্ষার জন্য যাঁরা রাজ্য সরকার বা অন্য কোনও সংস্থার স্কলারশিপ পান, তাঁরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন না। অর্থাৎ পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ না পাওয়া যুবক-যুবতীদের জন্যও এই ভাতা চালু থাকবে। রাজ্য বাজেটে জানানো হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বড় অঙ্ক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সময় কম বলে এখনই অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। কষ্ট করে এসে দরখাস্ত জমা দিন।’




