দেশেরসময় ওয়েবডেস্কঃ ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ছ’টায় ফাঁসি হবে নির্ভয়া-কাণ্ডের অপরাধীদের। আগের ফাঁসির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার পরে ফের নতুন তারিখ ঘোষণা করল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত।

মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যায় দুই অপরাধী মুকেশ কুমারের ও বিনয় শর্মার দায়ের করা কিউরেটিভ পিটিশন। এর পরেই ফের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে মুকেশ। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে সম্ভবত এই শেষবারের মত প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে পেরেছিল সে। আজ, অর্থাৎ শুক্রবার সেই আর্জি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আবেদন পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই তা খারিজ করেন দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

তার পরেই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালত ঘোষণা করল ফাঁসির নতুন তারিখ।

গত ৭ জানুয়ারি পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল ২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় তিহাড় জেলে চার অভিযুক্তের ফাঁসি হবে। ২০১২ সালের নির্ভয়া গণধর্ষণের ঘটনার সাত বছর পরে এই চরম নির্দেশ ঘোষণা করে আদালত। কিন্তু আইনি জটিলতায় স্থগিত হয়ে যায় ফাঁসি।

দিল্লি সরকার জানিয়ে দেয়, ২২ জানুয়ারি নির্ভয়া কাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি হচ্ছে না। কারণ খুনিদের একজন মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষা চেয়েছে। যদি তা নাকচ হয়ে যায়, তাহলেও অপরাধীকে ফাঁসির ১৪ দিন আগে নোটিস দিয়ে সেকথা জানাতে হবে। তাই ২২ জানুয়ারি তাদের ফাঁসি দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার ১৬ জানুয়ারি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডের দিনের ঠিক পাঁচদিন আগে, তিহাড় জেলের আধিকারিকরা ফাঁসির জন্য নতুন তারিখের আবেদন করেছেন। তাঁদের কথায় দোষীদের দায়ের করা প্রাণভিক্ষার আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

২০১৭ সালে চার অপরাধীর মুক্তির আর্জি খারিজ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, যে নৃশংসতার সঙ্গে এই অপরাধ তারা করেছে তা দেখে মনে হচ্ছে এই ঘটনা অন্য কোনও গ্রহের। এই ঘটনা গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অপরাধীদের মুক্তির আর্জির কোনও প্রশ্নই নেই। দেশের শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরেও নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চারজনের ফাঁসি নিয়ে শুরু হয়েছে টালবাহানা।

চার দোষীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর হতে আরও দেরি হবে বলে ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্ভয়ার মা আশাদেবী। তিনি বলেন, “সাত বছর ধরে বিভিন্ন আদালতে ঘুরছি। এবার বিচার চাই। দোষীদের যদি অধিকার থাকে, তাহলে আমাদেরও ন্যায় পাওয়ার অধিকার রয়েছে।”

শেষমেশ ঘোষিত হল চূড়ান্ত দিন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে জিতল ন্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here