দেশের সময় ওয়েবডেস্কঃ পৌষমেলা নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যশালী বসন্ত উৎসব। দিনক্ষণ-নির্ঘন্টই শুধু নয়, শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব ঘিরে বেনজির সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবারের বসন্ত উৎসব কেবলমাত্র বিশ্বভারতীর পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ বাইরের কেউ আর শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, প্রথামাফিক দোলের দিন নয়, বরং অনেক আগেই সেরে ফেলা হচ্ছে বসন্ত উৎসব।

এই বিষয়ে অনেক আগেই অবশ্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, দোল পূর্ণিমার দিন নয়, তার আগে বা পরের কোনও পূর্ণিমার দিন হতে পারে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১০ মার্চ দোল হলেও বসন্ত উৎসব হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ প্রায় ২০ দিন আগে। যে খবর বাইরে আসা মাত্র শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।

যদিও সংবাদমাধ্যমকে উপাচার্য এই বিষয় নিয়ে কিছুই বলতে চাননি। গত বছরের বসন্তোৎসবে ভিড়ের চাপে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্বভারতী। মনে করা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও গতবছর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বসন্ত উৎসবের নামে গোটা শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক পরিবেশটাই সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এত মানুষের ভিড়ে প্রয়োজনীয় কাজটুকুও সারা যাচ্ছে না, রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকছে অ্যাম্বুল্যান্সও।


শুধু যে মানুষের ভিড় তা তো নয়, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গাড়ির ভিড়ও। যা নিমেষে ধ্বংস করে চলেছে সবুজ শান্তিনিকেতনকে। বিশৃঙ্খলা। বসন্তোৎসব সুষ্ঠ ভাবে মিটলেও, পর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভাবে অনুষ্ঠান পরবর্তী বিশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যর্থ বিশ্বভারতী ও পুলিশ-প্রশাসন। তাই এবারের বসন্ত উৎসবে বাইরের কাউকে আর ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকী স্থান এখনও ঠিক করা হয়নি, কর্মী পর্ষদকে উৎসব স্থল নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here