

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় আসার সময়েই বিপত্তি! কলকাতার আকাশে দুর্যোগের ফলে বিমান নামতে বিলম্ব। জানা গিয়েছে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি ও বিদ্যুতের ঝলকানির ফলে বিমান নামতে বিলম্ব হয়।
কলকাতায় দুর্যোগের কারণে অবতরণে বাধা পেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমানও। রাত ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁর বিমান অবতরণের কথা ছিল কলকাতা বিমানবন্দরে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শাহের বিমান কলকাতার আকাশে চলে এসেছিল ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ। প্রায় ৫৫ মিনিট বিমানটি আকাশে চক্কর কেটেছে। এক বার বনগাঁ, হাবরা হয়ে কৃষ্ণনগরের দিক থেকেও তা ঘুরে এসেছে বলে সূত্রের খবর। রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ শাহের বিমান অবতরণ করে কলকাতায়। এর আগে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন।

সাধারণত বিএসএফের বিমানে যাতায়াত করেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে শুক্রবার তিনি সেই বিমানে আসেননি। এসেছেন ছোট আকারের একটি বেসরকারি বিমানে। সেই কারণেই দুর্যোগে তা অবতরণ করাতে সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটেরা। শাহের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে কলকাতা বিমানবন্দরে দীর্ঘ ক্ষণ অপেক্ষা করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারেরা। ছিলেন অমিত মালবীয়

বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে। ওই বিমানটিকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর কাটতে হয়েছিল। কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি কলকাতায় নামেন। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট পাইলটদের প্রশংসাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সকাল থেকে প্রবল গরম। তখনই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শুরু হলো মুষুলধারে বৃষ্টি । সঙ্গে এলোমেলো হাওয়া আর মুহুর্মুহু বজ্রপাত। চারপাশ মুহূর্তে সাদা। ভিজল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ। বৃষ্টি হয়েছে উত্তরেও।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা (ট্রফ) চলে গিয়েছে। এটি রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, সংলগ্ন বাংলাদেশ ও অসমের উপরে। তার জেরেই এই বৃষ্টিপাত।

আগামী দুই দিন উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় হতে পারে শিলাবৃষ্টিও।
দক্ষিণবঙ্গের ছবিটাও একই রকম। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হুগলি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে শিলাবৃষ্টিক সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

সমুদ্রেও সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূলে প্রবল ঝড় এবং বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময়ে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।




