জীবনাবসান প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের

0
678

দেশের সময় : হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী তথা বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী সুষমা স্বরাজ। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ দিল্লির এইমস হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন সুষমা। তারপরেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির এইমস হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ভর্তি করা হয় ইমারজেন্সিতে। অনেক চেষ্টা করেও ডাক্তাররা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। মৃত্যু হয় তাঁর।

মঙ্গলবার সন্ধেবেলায় নিজের শেষ টুইটটি করেন সুষমা। সেই টুইটে কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ধন্যবাদ জানা তিনি। টুইটে সুষমা লেখেন, “ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীজি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমি এই দিনটা দেখার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।”

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সুষমা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়েই এইমস-এ যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও নিতীন গড়করি। পরে সেখানে আসেন রাজনাথ সিং ও স্মৃতি ইরানি।

প্রথম মোদী সরকারের সময় কেন্দ্রের বিদেশমন্ত্রী ছিলেন সুষমা স্বরাজ। সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন এই নেত্রী। বছরখানেক আগে কিডনির সমস্যা হয় তাঁর। কিডনি প্রতিস্থাপনও করান সুষমা। এ বার আর লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়াননি তিনি। নিজেই মোদীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এ বারের নির্বাচনে আর দাঁড়াবেন না তিনি।

বিদেশমন্ত্রী হিসেবে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন সুষমা স্বরাজ। যখনই কেউ সমস্যায় পড়ে কোনও সাহায্যের আবেদন করতেন, সঙ্গে সঙ্গে তার জবাব দিতেন। তাঁর সেন্স অফ হিউমারও জনপ্রিয় ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে দিন তিনি জানান, আর ভোটে দাঁড়াবেন না, সে দিন অনেক মানুষ টুইটারে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তাঁকে।

সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর খবর পেয়েই টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইটে তিনি লেখেন, “ভারতীয় রাজনীতির এক গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। একজন নেত্রী যিনি তাঁর সারা জীবন সাধারণ মানুষ ও গরিবদের ভালোর জন্য কাটিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ শোকস্তব্ধ। সুষমা স্বরাজজি দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে আদর্শ হয়ে থাকবেন।”


বর্ষীয়ান এই নেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইটে তিনি জানান, “সুষমাজির অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। আমি ৯০-এর দশক থেকে তাঁকে চিনতাম। আমাদের মতাদর্শ আলাদা হলেও আমরা সংসদে অনেক ভালো সময় কাটিয়েছি। একজন অসাধারণ রাজনীতিবিদ, নেত্রী ও ভালো মানুষ। ওনাকে মিস করবো। ওনার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানাই।”
ন’বারের সাংসদ ছিলেন সুষমা স্বরাজ। ১৯৭৭ সালে সবথেকে কম বয়সে মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন এই জনপ্রিয় নেত্রী। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন সুষমা।

Previous article৩৭০ ধারা বিলোপ অসাংবিধানিক নয়,সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মত
Next articleহাবড়ার পর অশোকনগর, ডেঙ্গি প্রায় মহামারী, লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here