

কলকাতা :রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । মেট্রো চ্যানেলে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত সুব্রত বক্সী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত শতাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী। উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্টজনেরা। বিকেল চারটে থেকে মিটিং হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলার মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,‘নির্লজ্জ বেহায়া বিজেপি পার্টি। তার দালাল কমিশন। এ লজ্জা ঢাকার কোনও জায়গা নেই। বেঁচে আছেন অথচ তালিকায় মৃত প্রচুর মানুষ। মনে রাখবেন আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। আমরা তাদের খুঁজে বের করেছি।’

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে সামিল হতে চলেছেন কমিশনের তালিকায় মৃত ২২ জন।
এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে এই অভিযোগে এবং বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরোধিতায় শুক্রবার (৬ মার্চ) ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না শুরু করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শহর কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বদের ধর্নামঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিষেক। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রচুর সমর্থকরা উপস্থিত হয়েছেন ধর্নামঞ্চের সামনে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিকেল ৪টে থেকে মিটিং চালু হবে।

মমতার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছে রাজ্যের বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতামন্ত্রীরা। রয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিধায়ক দোলা সেন, সাংসদ জুন মালিয়া এবং অন্যান্য নেতৃত্ব। ধর্নামঞ্চে থাকবেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, থাকবেন এসআইআরে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া জীবিত ভোটাররা। তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠনও উপস্থিত থাকবে ধর্নায়। জেলাগুলি থেকে তৃণমূল বিধায়কেরা লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মঞ্চে।

নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বললেন, ‘‘লজ্জা রাখার জায়গা নেই। ভোটার তালিকায় মৃতেরা এখানে বসে রয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখুন, এঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এঁরা বসে থেকে প্রমাণ দিচ্ছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন।’’
প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে এই মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে টানা কয়েক দিন ধর্না করেছিলেন এখানেই।




