

নির্বাচনী রণদামামা বেজে উঠতেই বনগাঁ মহকুমায় রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। সোমবার এক বিশাল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বনগাঁ মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির চার প্রার্থী। এদিন প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, যা স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে।

সোমবার সকাল থেকেই বনগাঁর ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে যশোর রোড ধরে এগোতে থাকে বিজেপির এই বিশাল মিছিল। মিছিলে ছিল সুসজ্জিত ট্যাবলো এবং দলীয় পতাকার সমারোহ। ঢাক-ঢোল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। দেখুন ভিডিও

এদিন বনগাঁ মহকুমা অফিসের নির্দিষ্ট কক্ষে নিজেদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন বনগাঁ মহকুমার চার বিজেপি প্রার্থী। তাঁরা হলেন– গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য সুব্রত ঠাকুর, বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য অশোক কীর্তনীয়া, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য স্বপন মজুমদার এবং বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের জন সোমা ঠাকুর।

এদিন বনগাঁর ১ নম্বর রেলগেট থেকে মিছিল শুরু হয়। হাজার হাজার বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতা, কর্মী, সমর্থকদের বর্ণাঢ্য এই মিছিল যশোর রোড ধরে বাটা মোড়, কোর্ট রোড, স্কুল রোড হয়ে ত্রিকোন পার্কে শেষ হয়। সেখানে একটি জনসভাও অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীরা ছাড়াও সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, জেলা সভাপতি সহ অন্যান্যরা।

বর্ণাঢ্য এই মিছিলের মাঝে একটি গাড়ির উপর প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়া, সুব্রত ঠাকুরকে পাশে নিয়ে হাত নেড়ে রাস্তার দুধারের মানুষদেরকে অর্ভিবাদন জানাচ্ছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। মাঝেমধ্যে পদ্মফুলও ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন। শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ যে জনজোয়ার দেখলাম, তাতে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। এই রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ে যুব সমাজকে নতুন দিশা দেখাবে।’

এদিনের কর্মসূচিতে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় প্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করার পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তাঁর এই অংশগ্রহণ বনগাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে বাড়তি মাইলেজ দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, মনোনয়নের এই জমায়েতই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে মহকুমার চারটি আসনেই পদ্ম শিবির তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে কতটা আত্মবিশ্বাসী।




