‘আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব…’ SIR নিয়ে সুপ্রিম- রায়ের পরে বিজেপি-কমিশনকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

0
57

‘আজ কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব…তৈরি থাকো’, SIR-এর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে, বারাসতের সভা থেকে ঠিক এ ভাবেই বিজেপিকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার বারাসতের কাছারি ময়দানে ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। তার কিছুক্ষণ আগেই সুপ্রিম কোর্ট SIR সংক্রান্ত একটি মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। ১০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ে ডাকতে হবে। হিয়ারিংয়ে কাদের ডাকা হচ্ছে, সেই তালিকা পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলা সদর অফিস সর্বত্র টাঙাতে হবে। তার পরেই বারাসতের মঞ্চ থেকে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ছত্রে ছত্রে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এ দিনের সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে তৃণমূল যে তাদের জয় হিসেবেই দেখছে, তা সাংসদের কথাতেই স্পষ্ট। তাঁর তোপ, ‘যারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাদের দু-গালে দু’টো কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।’

লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির অজুহাতে কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলার বৈধ ভোটারের নাম কাটার চেষ্টা করছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । এ ব্যাপারে মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টেও। 

ওই মামলায় সোমবার নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। আর আদালতের সেই রায় সামনে আসতেই বারাসতের কাছারি ময়দানের সভা থেকে বিজেপি এবং কমিশনের  বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন অভিষেক। অভিষেকের কথায়, “তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সর্বোচ্চ আদালত।”

এরপরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কার ক্ষমতা বেশি মোদীজি? ১০ কোটি মানুষের নাকি আপনাদের গায়ের জোরের? আজকে কোর্টে হারালাম, এপ্রিলে ভোটে হারাব- তৈরি থাকো।”

এখানেই না থেমে অভিষেক বলেন, “ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল আড়াইশোর বেশি আসনে জিতবে, আর বিজেপিকে ৫০ এর নীচে নামাবই নামাব। যাঁরা আমাদের টাইট করতে চেয়েছিল, বাংলার মানুষই তাঁদের টাইট করে দেবে এবারের ভোটে। কারণ, বাংলার মানুষ বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না, মেরুদন্ড বিক্রি করতে জানে না!”

অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে মোকাবিলা করতে না পেরে এজেন্সি থেকে মিডিয়া সবাইকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে বাংলার বদনামের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। এই দু’মাসে প্রায় ৯২ জন মানুষ এসআইআর এর ভয়ে প্রাণ দিয়েছেন। এরই প্রতিবাদে আমরা আদালতে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ করা হোক। আদালত তৃণমূলের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েছে।

‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র সংক্রান্ত মামলায় এদিন আদালত জানিয়েছে, শুধু লিস্ট প্রকাশ করলে হবে না, গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পঞ্চায়েতে সেই তালিকা টাঙাতে হবে, কাকে কী কারণে ডাকা হচ্ছে।

অভিষেক বলেন, “এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম। বিজেপি চেয়েছিল, যাঁরা ওদের ভোট দেয় না, তাঁদের ওরা জব্দ করবে। তাই ১ কোটি নাম বাদ দিতে চেয়েছিল কমিশন-মোদী সরকার। আজকে তো সুপ্রিমকোর্ট ওদের ভোকাট্টা করে দিল!”

রবিবার সিঙ্গুরের সভা থেকে রাজ্যে বদলের দাবি জানিয়ে মোদী বলেছিলেন, পাল্টানো দরকার, বাংলার সরকার। এদিন যার জবাবে অভিষেক বলেন, পাল্টানো দরকার, ভাঙো বিজেপির অহঙ্কার।

অভিষেকের কথায়, গতবারে ওদের ৭০ এর বেশি আসনে জিতিয়েছিলেন বলে ওরা বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। যার অর্থ বিধানসভা ভিত্তিক প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। এবারে ওদের ৫০ এর নীচে নামান। তাহলেই ওদের অহঙ্কারের পতন হবে।

ভোটের সময় বিজেপি ‘টাকা দিয়ে ভোট কিনতে এলে’ কী করতে হবে তাও এদিনের সভা থেকে কর্মীদের জানিয়েছেন অভিষেক।  কর্মীদের উদ্দেশে বললেন, “ভোটের সময় বিজেপি টাকা ছড়াবে। টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করবে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, হাতজোড় করে টাকা নিয়ে নেবেন। এটা বাংলারই টাকা। টাকাটা নিয়ে বিজেপিকে আশ্বস্ত করে বলবেন-ভোটটা দেব। তারপর যেভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নোটবন্দি, এসআইআর এর নামে আপনাদের মোদী সরকার বিধ্বস্ত করেছে সেই ভাবে ওদেরকে জবাব দেবেন যাতে ভোট বাক্স খুললে বিজেপি সর্ষে ফুল দেখে।”

উত্তর ২৪ পরগণার ৫টি লোকসভার মধ্যে চারটি তৃণমূলের দখলে। অল্প ব্যবধানে বনগাঁয় পরাজিত হয়েছিলেন শাসকদলের প্রার্থী। ওই প্রসঙ্গ টেনে এদিনের সভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, বিজেপি-কমিশনের ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে দিতে হবে। তাই এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে ৩৩-০ করতে হবে। ওরা যে ভাষা বোঝে সেই ভাষায় জবাব দিতে হবে। বিধানসভা ধরে নয়, বুথ ধরে ধরে এদের শিক্ষা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,তৃণমূলের বরাবরের অভিযোগ, রাজনৈতিক ভাবে তাদের মোকাবিলা না করতে পেরে এজেন্সি, নির্বাচন কমিশন, সেন্ট্রাল ফোর্স, টাকা কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্ত করছে বিজেপি। বারাসতের কাছারি ময়দানের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ, ২৫০-র বেশি আসন পেয়ে তৃণমূল জিতবে, ‘বিজেপিকে ৫০-এর নীচে নামাব…যাঁরা আমাদের টাইট করতে চেয়েছে, টাইট নিজেরা হবে…।’

Previous articleবারাসতের বিদ্যাসাগর মঞ্চে চৌধুরী সুধীরথের ‘কালজয়ী ২য় খন্ড’ বই প্রকাশ : দেখুন ভিডিও
Next articleবিজেপির সদর দপ্তর থেকে বাংলার নাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে , বিধানসভা ভোটের আগে কী বার্তা মোদীর ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here