আক্ষেপ-আশঙ্কার সুরেই এ বার ভোট হলো মতুয়াগড় বনগাঁর চার বিধানসভা কেন্দ্রে

0
4
অর্পিতা বনিক , দেশের সময়

বনগাঁ :সব ইস্যু ছাপিয়ে বুধবার শেষ দফায় উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াগড়ে ভোটের সুর একটাই। একদিকে তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মতুয়া ভোটারদের আক্ষেপ। অন্যদিকে, ‘সার’ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত হয়রানির পর একেবারে শেষ মুহূর্তে ভোটাধিকার পাওয়া ভোটারদের ক্ষোভ। বুধবার বনগাঁ মহকুমার চার কেন্দ্র ঘুরে এই চিত্রই চোখে পড়ল।

প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে একশো মিটারের দূরত্বের গণ্ডি বেঁধে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই গণ্ডির ভিতরে ভোটার ছাড়া কাউকেই ঘেঁষতে দেয়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কয়েক প্রজন্ম ধরে এ দেশে বসবাস করে বহু ভোটে অংশগ্রহণের পরেও এ বার সার–এর ফলে ভোটাধিকার হারানো মতুয়ারা অনেকেই এ দিন গণ্ডির ভিতরে ঢোকার অনুমতি পাননি। তাঁদের কেউ বাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে বুথের সামনে লম্বা লাইন দেখেছেন, কেউ ঘরে বসেই কাটিয়েছেন দিনটা। ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ লুকোননি কেউ।

বনগাঁয় ছবিটি তুলেছেন দিব্যেন্দু পোদ্দার ।

আর যাঁরা দীর্ঘ হয়রানির পর ভোটাধিকারের ছাড়পত্র পেয়ে বুথের লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরাও ক্ষুব্ধ। ক্ষোভ আর আক্ষেপ-আশঙ্কার সুরেই এ বার ভোট হলো মতুয়াগড় বনগাঁর চার বিধানসভা কেন্দ্রে।

রাতারাতি পুলিশের আচরণ পাল্টে গেছে, বললেন পীরোজপুরের গণেশ বিশ্বাস সহ অন্যান্য তৃণমূলনেতারাও পেট্রাপোল সীমান্তের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ!: দেখুন ভিডিও

এই চার কেন্দ্র হলো — গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং বাগদা। সবক’টি কেন্দ্রই মতুয়া-প্রধান। রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বাগদায় পড়েছে ৮৭.৯০ শতাংশ, বনগাঁ দক্ষিণে ৯১.০৮ শতাংশ, বনগাঁ উত্তরে ৯০.২৯ শতাংশ ও গাইঘাটা ৯০.৯৯ শতাংশ ভোট। এর মধ্যে বাগদা, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটায় মতুয়াদের বাস বেশি। ভোটের এই বিপুল শতাংশে মতুয়ারা কাদের দিকে রায় দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ দিন মতুয়াগড়ের প্রতিটি বুথে সকাল থেকেই লম্বা লাইন পড়ে ভোটারদের। অতীতে যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদের অনেকেই নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

বাগদায় ছবিটি তুলেছেন সুব্রত বক্সী ।

প্রায়  গন্ডগোল ছাড়াই এ দিন ভোট হয়েছে মতুয়াগড়ে বলা যেতে পারে। বনগাঁ দক্ষিণের গোপালনগরের বাসিন্দা অর্চনা দাস মতুয়া। অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। গত সব ভোটেই তিনি যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এ বার তাঁর ভোট নেই। অর্চনা বলেন, ‘ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। দুঃখ ভুলতে এ দিনও অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজে গিয়েছি। কাজে ব্যস্ত থাকলে কিছুটা দুঃখ কম হয়।’ বনগাঁ দক্ষিণের নহাটা গ্রামে বাড়ি বিকাশ হালদারের। তিনিও এ বার ভোট দিতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘সার–এর জন্যই আমি বেনাগরিক হলাম। এর দায় বিজেপির।’

ভোট না দিতে পেরে গাইঘাটা এলাকায় কথায় কথায় উঠে এলো দু’টি বিষয় — ১) সার নিয়ে কমিশন ও বিজেপিকে দোষারোপ এবং ২) নাম তোলার ক্ষেত্রে তৃণমূলের আন্দোলনের প্রসঙ্গ। গাইঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, ‘মতুয়ারা ভোট দিয়েছেন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থেকে। যাঁরা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের আত্মীয়রা কি পদ্মে ভোট দিতে পারবেন? মতুয়ারা যে ভুলটা আগে করেছেন, সেটা এ বার করবেন না।’

ছবিটি তুলেছেন রতন সিনহা ।

ঠাকুরবাড়ির প্রতিনিধি তথা বিজেপির প্রার্থী সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘যাঁরা ভোট দিতে পারেননি, তাঁরা নিশ্চিন্ত থাকুন। আগামী দিনে তাঁরা নাগরিকত্বের সব নথি পেয়ে যাবেন। সিএএ তাঁদের রক্ষাকবচ হবে।’

বাগদার বাসিন্দা গোপীনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘মতুয়াদের বড় অংশ এতদিন বিজেপিকে ভোট দিলেও অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপি তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি। নিজেদের এলাকা থেকে যেটুকু বুঝেছি, মতুয়াদের ভোট তৃণমূলের দিকে বেশি পড়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনগাঁয় নাম বাদ যাওয়া এক মতুয়া আবার বলেন, ‘বিজেপিকে ভোট দিয়েছি এতদিন। মোদীজিকে ভরসা করছি এখনও।’

ছবি তুলেছেন : দিব্যেন্দু পোদ্দার ।

বনগাঁ উত্তরের বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘মতুয়া বা যে সম্প্রদায়ই হোক, হিন্দুরা আমাদের উপরেই ভরসা রেখেছেন।’ দাবি, তাঁর  বনগাঁ উত্তর বিজেপিই জিতবে।

তৃণমূলের বনগাঁ উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘মতুয়াদের ভোট কোন দিকে কত গিয়েছে, সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে নাগরিকত্বের প্রশ্নে বিজেপির সহযোগিতা না পেয়ে মতুয়াদের অনেকেই আমাদের দিকে ভোট দিয়েছেন।’

Previous articleExit Poll 2026 Live: পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন ?বাংলা দখল করবে কে? বুথফেরত সমীক্ষায় অধিকাংশতেই ‘জিতছে বিজেপি’, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here