

দিব্যেন্দু পোদ্দার , দেশের সময় : বনগাঁ উত্তরে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর সমর্থনে আগামী মঙ্গলবার বনগাঁয় সভা করতে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপির শক্ত ঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করে বুথ স্তরের কর্মীদের নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে চাটাই বৈঠকের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। গেরুয়া শিবিরের ওই ঘাঁটিগুলিতেই এ বারের নির্বাচনে ঘাসফুল ফোটাতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের চাটাই বৈঠক কোনও প্রভাব পড়বে না।

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের কয়েকটি বুথ ও অঞ্চলে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক অনেকটাই শক্তিশালী। প্রার্থী হওয়ার পর প্রতিদিন তিন চারটি ছোট ছোট কর্মী বৈঠক করে দলকে চাঙ্গা রাখতে চাইছেন বিশ্বজিৎ। যে সব এলাকায় বিজেপির শক্তি বেশি, সেই জায়গাগুলোকেই টার্গেট করে চাটাই বৈঠক করছেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, এর ফলে সরাসরি স্থানীয়দের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ যেমন হচ্ছে, তেমনই গত পাঁচ বছর এই কেন্দ্রের বিজেপির বিধায়কের বিরুদ্ধে অভাব, অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে উঠে আসছে।

বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমি এই পদ্ধতির মাধ্যমে জনসংযোগ বেশি করার চেষ্টা করছি। পাড়ার একটা জায়গায় বসে কথা বললে এলাকার মানুষের অভিযোগ বা দাবি শোনা হচ্ছে। এর সুফল মিলছে। এ বার বনগাঁ উত্তর তৃণমূল জিতবে। মঙ্গলবার নেত্রী আসছেন। তিনি কী বার্তা দেন, সেই অনুযায়ী প্রচার আরও বাড়বে।’ বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘বনগাঁ উত্তর বিজেপির দুর্জয় ঘাঁটি। ২০২১ সালের জয়ের ধারা এ বারেও বজায় থাকবে।’

বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রেও মতুয়া ভোট একটা ফ্যাক্টর। গত বিধানসভায় এই কেন্দ্র থেকে অশোক কীর্তনিয়ার জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ৪৪৮। এ বার সার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মতুয়াদের ক্ষোভ বেড়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ৭ হাজার ৯২৬ জন। বাকি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে আরও ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ফলে চাপের মুখে রয়েছে পদ্ম শিবির।সেটাকেই এ বার কাজে লাগাতে তৎপর বিশ্বজিৎ।
সোমবার দুপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার ফাঁকেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘বিশ্বজিৎ দাসকে এলাকার মানুষ দলবদলু হিসেবে চিনে গেছেন। ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগদান করে ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে বাগদা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি ফের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। আসলে তিনি বিজেপির মতো একটি রাষ্ট্রবাদী দলের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেননি। তিনি তৃণমূলের মতো একটি কাটমানি খাওয়া দলের জন্যই উপযুক্ত।’

অশোক কীর্তনীয়ার দাবি অনুযায়ী, তিনি এবার পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করবেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর যে চক্রান্ত, তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন মানুষ। শিক্ষিতরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে বিজেপিকে ভোট দেবেন। শিল্পের পক্ষে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসতে বিজেপিকে ভোট দেবেন। চাকরিজীবীরা ভোট দেবেন তাঁদের সপ্তম পে কমিশন পাওয়ার অধিকারের দাবিতে।’

অন্যদিকে, জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘মানুষ গত পাঁচ বছর ধরে এলাকার বিধায়ককে পাননি। কিন্তু আমাকে বিধায়ক হিসেবে দশ বছর দেখেছেন। বনগাঁ আমার প্রানের শহর। এখানে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে গিয়েছি। বর্তমান বিধায়ককে কাছে না পেয়েও আমাকে পাওয়ায় মানুষ আমাকেই আপন করে নিচ্ছেন। তৃণমূলের উন্নয়নমূলক প্রকল্প রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে স্পর্শ করে গেছে।’ এসআইআর–এ অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার দায় বিজেপির উপর চাপিয়ে দিয়ে বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘এসআইআর এর নামে বিজেপির চক্রান্তে মানুষ ক্ষুব্ধ।’

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। আর এই সময়টাকে দিনরাত এক করে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন জুজুধান দুই দল তৃণমূল এবং বিজেপির প্রার্থীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা ভোটারদের আসল মন জয় করতে পারবে, সেটা সময়ই বলবে।



