বাংলাদেশ থেকে হামলার আশঙ্কা,গোয়েন্দা সূত্রের দাবি , সতর্কবার্তা জারি

0
291

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় স্বাধীনতা দিবসের আগে বড়সড় সতর্কবার্তা জারি করল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই সম্ভবত বাংলাদেশ-ভিত্তিক কিছু জঙ্গি সংগঠনকে দিয়ে ভারতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে এমনিতেই দেশের প্রায় সর্বত্র কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকে। কিন্তু আচমকা আইবি- র এমন অ্যালার্টে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সব দিক মাথায় রেখে তাই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্ক থাকার ব্যাপারে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

ঘটনাচক্রে শুক্রবারই মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলায় বাংলাদেশি গ্যাংয়ের তাণ্ডবের খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, ওই গ্যাং অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিল। একজন তাদের আটকানোর চেষ্টা করতেই পুলিশের দাবি, রাত ১টা নাগাদ ৯ জনের সশস্ত্র ওই দল তাঁকে ছুরি দিয়ে কোপায়। হামলা চালিয়ে দলটি পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের একজনের আই-কার্ড পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, পড়শি দেশের পুলিশের প্রত্যক্ষ মদত নিয়েই জঙ্গিরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিল। নাকি, ওই গ্যাংয়েই ছিল বাংলাদেশি পুলিশ — প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

গত বছর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই রাজনৈচিত অচলাবস্থা জারি বাংলাদেশে। অভিযোগ, দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে গত কয়েকমাসে একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। বহু কট্টর জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জেল থেকে। ঝোপ বুঝেই তাই কোপ মারতে শুরু করেছে আইএসআই। ঢাকার সঙ্গে লাগাতার সখ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।

একাধিক সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে পরামর্শ এবং জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আইএসআই তাদের কর্মকর্তাদেরও পাঠিয়েছে। পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত সরকার। সেই কারণেই ভারতের পূর্ব সীমান্ত বাংলাদেশ এখন আইএসআই-এর সহজ গেটওয়ে বলে মনে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সবচেয়ে বেশি বিপদ আসতে পারে জেএমবি জঙ্গি গোষ্ঠীর দিক থেকে। কারণ এই জঙ্গি সংগঠন অসমের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও অনেকদিন ধরে সক্রিয় বলে দাবি একাংশের। পাশাপাশি, হরকত-উল-জিহাদি ইসলামি এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি-ও বেশ বিপজ্জনক। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তায় সামান্য ফাঁকও রাখতে নারাজ ভারত।

Previous articleবাংলা জুড়ে সম্প্রীতির রাখী বন্ধন উৎসব পালন, বনগাঁ থেকে শহর কলকাতায় সৌভ্রাতৃত্বের ছবি
Next articleরক্তে লেখা শপথ ! আরজি কর কাণ্ডের বিচারের দাবিতে  জেলাজুড়ে মানব বন্ধন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here