

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Corporation Scam) গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose)। এর ঠিক চার দিনের মাথায় শুক্রবার তলব ছাড়াই ইডি (ED) দফতরে হাজিরা দেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh)। একই মামলায় ১০ ঘণ্টার জেরার পর সিজিও কমপ্লেক্স (CGO Complex) থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তবে কোন কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে, তা খোলসা করেননি।

সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রথীন ঘোষ (Rathin Ghosh) সাফ জানিয়ে দেন, “আমি কিছু বলব না। আমার কাছে যা যা জানতে চেয়েছে, আমি সবই দেখিয়েছি।” আবারও কি তাঁকে তলব করা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জানান, “জানাবে।”

এর আগে রথীন ঘোষকে মোট পাঁচবার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি (ED)। কিন্তু প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথম কয়েকবার তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জানিয়েছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনের কাজের ব্যস্ততা রয়েছে তাঁর, তাই সশরীরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। ভোট মিটলে ফের তাঁকে নোটিস পাঠায় ইডি। সেই সময় প্রাক্তন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ১০ দিনের ‘বেড রেস্টে’ রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার সেই যুক্তি দেখিয়ে সেবারও এড়িয়ে যান জেরা।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জট খুলতেই রথীন ঘোষকে তলব করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় বেনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ। কী ভাবে নিয়োগ হয়েছিল, কারা টাকা নিয়েছিল এবং এর পিছনে কত বড় চক্র সক্রিয় ছিল— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন গোয়েন্দারা। তাঁর আমলের বেশ কিছু নথি এবং বয়ান খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে দাবি।

গত ১১ মে একই মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে টানা জেরার পরে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন বিধাননগরের ‘দাদা’ সুজিত বসু । বয়ানে অসঙ্গতি এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা ।




