‘আমার স্বপ্নের সোনার বাংলা , একবার সেবা করার সুযোগ দিন’,  রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

0
174

বিজেপির সরকার গড়ার ডাক দিয়ে বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখলেন, সোনার বাংলার সকল নাগরিক বঞ্চিত। তাই তাঁর মন ভারাক্রান্ত। চিঠিতে ‘জয় মা কালী’ লিখে লেখা শুরু করেছেন। মোদী লেখা এই চিঠির প্রত্যেকটা শব্দবন্ধ, শব্দচয়ন, লাইন বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে, ‘জয় শ্রী রাম’ শব্দবন্ধ নিয়ে কীভাবে তপ্ত হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক সংঘাত।

প্রধানমন্ত্রী এদিন চিঠির শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, আগামী দিনে কোন পথে চলবে বাংলা—সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজ্য। বাকি চিঠিটা এই প্রেক্ষাপটেই লেখা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, সেই চিঠিতে কোথাও তৃণমূলের নাম নেই, নাম নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বরং কৌশলগত ভাবে গোটা চিঠির পরতে পরতে বাংলার হতাশাজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর বোঝাতে চেয়েছেন, বাংলা কী হতে পারত, কিন্তু এখন কী জীর্ণ দশায় রয়েছে।

বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় বিকল্প উন্নয়নের মডেলের ছবি দেখাতে চেয়ে সোমবার রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি  লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিঠিতে যেমন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তিনি, তেমনই রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন  এবং ‘বিকশিত বাংলা’ গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর কথায়, “স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই পশ্চিমবঙ্গই ছিল দেশের অর্থনীতির দিশারী, শিল্পায়নের অগ্রদূত। অথচ আজ পশ্চিমবঙ্গের এই রুগণ জরাজীর্ণ তদশা দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত হয়। গত ছয় দশকের অপশাসন ও তোষণমূলক রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা বর্ণনাতীত।” ভোট ব্যাঙ্কের সংকীর্ণ রাজনীতি ও হিংসা এবং নৈরাজ্যে জর্জরিত বাংলা।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। জনধন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বনির্ভর ভারত অভিযান—এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে গরিব, মধ্যবিত্ত, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্র বিপুল বিনিয়োগ করেছে—রেল, সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল পরিকাঠামোয় কাজ এগিয়েছে দ্রুতগতিতে। তাঁর বক্তব্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যের সম্ভাবনা আরও অনেক বেশি, যদি উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরি করা যায়।

চিঠির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, CAA মানবিক আইন, যার মাধ্যমে নির্যাতিত শরণার্থীরা সম্মানের সঙ্গে ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। বাংলার সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, বিগত বছরগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের অনেক সুযোগ হারিয়েছে। তাঁর মতে, সংঘাত ও বাধার রাজনীতির বদলে উন্নয়ন ও বিশ্বাসের রাজনীতি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই তিনি ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার আহ্বান জানান।

চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে আবেদন জানান—উন্নয়ন, সুশাসন ও স্বচ্ছতার পথে এগিয়ে আসার জন্য। ২০২৬ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে পশ্চিমবঙ্গ আবার দেশের অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

Previous article‘আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী…’, প্রাক্তন সহযোদ্ধার স্মৃতিতে মমতার টুইট , মুকুলের প্রয়াণে  বাংলায় শোকপ্রকাশ মোদীর
Next articleঝাড়খণ্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স,সকল যাত্রীই মৃত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here