অম্বর রায় ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন মধ্যমগ্রামের পল্লীশ্রী

0
251
সুব্রত বক্সী , দেশের সময়

গত মাসে শুরু হয় রাজ্য জুড়ে  সিএবি পরিচালিত অম্বর রায় ট্রফির প্রাথমিক স্তরের ক্রিকেট খেলা। সারা রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় এই জেলার ৪৭ টি দল নিয়ে শুরু হয় এই অম্বর রায় ট্রফির প্রাথমিক পর্যায়ের খেলা গুলি। জেলার ব্যারাকপুর,বারাসাত ও বনগাঁ মহকুমা জুড়ে এই প্রাথমিক স্তরের খেলা গুলি অনুষ্ঠিত হয়।

৮টি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি গ্রুপে ৬টি করে দল নিয়ে লীগ পর্যায়ের খেলা শুরু হয়। অতি গ্রুপ থেকে গ্রুপ শীর্ষে থাকা একটি করে দল নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে খেলা গুলি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম সেমি ফাইনালে পল্লীশ্রী বনাম আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টস স্পোর্টস মুখোমুখি হয়। আদিত্য স্কুল অফ স্পোর্টস প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ৪৫ ওভারে পাঁচ উইকেটের বিনিময়ে ৩০৭ রান সংগ্রহ করে।

আদিত্য স্কুলের হয়ে হিল্লোল রায় ১১০ রান করে, তন্ময় বোস ৯২ ও সুমন্ত পাল ৩৮ রান করে। এরপর পল্লীশ্রী ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে প্রয়োজনীয় জয়ের রান মাত্র ২ উইকেটের বিনিময়ে তুলে নেয়। পল্লী স্ত্রীর হয়ে তিয়াস দাস ১১৫ বলে ১০৮ রান, রাহিল গড়াই ১১৪ বলে ১৩০ রান ও ঐকান্তিক বৈদ্য ৩০ বলে ৫৩ রান করে। এই খেলায় পল্লী স্ত্রীর রাহিলগড়ায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচের সম্মান পায়।

দ্বিতীয় সেমিফাইনারিটি সোদপুর ক্লাব ও শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব এর মধ্যে হয়। সোদপুর ক্লাব প্রথম ব্যাট করে নির্দিষ্ট ৪৫ ওভারে ৭ উইকেট এর বিনিময় ২৫১ রান সংগ্রহ করে। রজত আগরওয়াল ৭৬ ও সুদীপ্ত পাল ৪২ রান করে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব মাত্র ৩২.৩ ওভারে ৮৫ রানে সকলে আউট হয়ে যায়। সোদপুর ক্লাবের পর নাগো সোম ২৩ রান দিয়ে ছটি উইকেট সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়।

বেলঘড়িয়া অ্যাথলেটিক্স এর মাঠে চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলায় পল্লীশ্রী ও সোদপুর ক্লাব মুখোমুখি হয়। প্রথমে পল্লীশ্রী নির্ধারিত ৪৫ ওভারে ২০৬ রান করে সকলে আউট হয়ে যায়।

জবাবে সোদপুর ক্লাব ৪১.১ ওভারে ১৪৪ রান করে সকলে আউট হয়ে যায়। পল্লী স্ত্রীর হয়ে ইতিহাস দাস ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট, হীরামন বৈরাগী ১৩ রান দিয়ে দুই উইকেট ও প্রিয়াঙ্কা ৪২ রান নিয়ে দুই উইকেট সংগ্রহ করে। ফাইনাল খেলায় পল্লীশ্রী’র  ইতিহাস দাস ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার অর্জন করে। এই টুর্নামেন্টে পল্লীশ্রী’র রাহিল গড়াই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করে। তার সংগৃহীত রান ৬১১। জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে এই সর্বোচ্চ রানের জন্য তাকে একটি ব্যাট উপহার দেওয়া হয়। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী (২০) পল্লী স্ত্রীর পর্ণাবো সোম একটি বোলিং সু উপহার হিসেবে পান।

চূড়ান্ত পর্যায়ে এই খেলায় মাঠে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রঞ্জি প্লেয়ার মাননীয় সনৎ ভট্টাচার্য মহাশয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক   নবাব ভট্টাচাৰ্য, ক্রিকেট সম্পাদক  পিনাকী চক্রবর্তী ও অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সমিতির সদস্যবৃন্দ।

চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহণকারী দুটি দলই পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্য স্তরে অংশগ্রহণ করবে। কিছুদিনের মধ্যেই আবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার পরিচালনায় অম্বর রায়ের অনূর্ধ্ব ১৩ ক্রিকেট শুরু হবে।

Previous articleসিপিআইএমে বড় ধাক্কা, দল ছাড়লেন প্রতীক উর রহমান ,কেন এই সিদ্ধান্ত?
Next articleবিষ খাইয়ে পথকুকুর খুনের অভিযোগ বনগাঁয় ,তদন্তে পুলিশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here