


দেশের সময় : এ বারের অন্তর্বর্তী রাজ্য বাজেটে যুব-সাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি, মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ, বেকার ছেলে-মেয়েদের মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে এই প্রকল্পে। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ১৫ অগস্ট থেকে টাকা পাবেন উপভোক্তারা।

সম্প্রতি,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেন, ১৫ অগস্ট নয়, ১ এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে ঢুকবে। সেই মতো রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ থেকে শুরু হলো ক্যাম্প। সেখানেই ফর্ম তোলা এবং ফর্ম জমা দিতে হবে। আপাতত অনলাইনে ফর্ম দেওয়া-নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই।

নবান্ন সূত্রে খবর, রেজিস্ট্রেশনের পরে ফর্ম যাচাই হবে। তার পরে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ঢুকবে টাকা। বেকার ভাতা তুলতে প্রথম দিনই জেলায় জেলায় লাইন। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ফর্ম তোলা যাবে।
যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার জন্য বনগাঁর এক তরুণী প্রীতি দও বলেন, “বনগাঁয় তেমন বিশেষ চাকরির সুযোগ নেই। বেসরকারি ফিল্ডেও নেই। কারণ এই সীমান্ত শহরে কোন বড় ইন্ডাস্ট্রিও নেই ।”

রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ক্যাম্প। ১ এপ্রিল থেকে চালু হবে ‘যুবসাথী ‘। এই প্রকল্প অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই ভাতা পাবেন। আর সেই প্রকল্পে আবেদনের জন্যই আজ থেকে শুরু হয়ে টানা এগারো দিন চলবে ক্যাম্প। এ দিন, দেখা গেল জেলায়-জেলায় বসেছে ক্যাম্প । লাইনে দাঁড়িয়ে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করছেন তরুণ-তরুণীরা। কলকাতা-সহ জেলায়-জেলায় একই ছবি।

এক যুবক বলেন, “এই সব ভাতা না দিয়ে যদি একটু চাকরির সুযোগ দিত ভাল হতো।” আর এক যুবতী বলেন, “আপাতত ঠিক আছে। কিন্তু চাকরি বেশি দরকার। যে টাকা ভাতা দিচ্ছে সেই টাকাই যদি স্যালারি দেয় তাতেও কাজ করব।” আর এক যুবক বলেন, “ভাতা তো সাময়িক। চাকরি তো সব সময়ের জন্য থাকবে।”
এক যুবক বলেন, “আমি আমার বাইকে রোজ দুলিটার তেল ভরি। কিছু তো সাহায্য হবে।”
এ দিন দেখা গেল বিএ, বিকম, বিএসসি এমনকী এমএ পড়ুয়ারা আসছেন বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে।
এক যুবক বললেন,”আমি স্নাতক স্তরে পড়ছি। ১৫০০ টাকায় কিছুই হয় না। চাকরি দরকার।” কাছে পিঠে সকলের একই বক্তব্য। ভাতা নয়। ইতিহাসে এমএ এক পড়ুয়া বলেন, “বাংলার যুবকরা হতাশ। ভাতা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না। বাধ্য হয়ে এসেছি। কী করব বলুন।”

ব্রততী নামে এক যুবতী বলেন, “চাকরি আছে। পাচ্ছি না। যেহেতু মিলছে না। তাই ভাতার আবেদনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।”
এই প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, এই সরকার চাকরি দিতে না পেরে ভাতায় ভোটার ধরার চেষ্টা করছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সরকারি চাকরি, শিল্প সব কিছুরই অপমৃত্যু ঘটিয়েছে এই সরকার। তা সকলে জেনেও গিয়েছে। আর চাকরি দিলেই পার্থরা চাকরি বিক্রি করবেন। তাই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চাকরির পার্টটা ক্লোজ় করে দিয়েছেন।’

এ দিন কলকাতায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাশী বোস লেনের শিবিরে উপস্থিত রয়েছেন শ্যামপুকুরের বিধায়ক শশী পাঁজা। প্রথম দিনের কাজ নিজেই খতিয়ে দেখছেন তিনি। শশী পাঁজা বলেন, ‘আমাদের শ্যামপুকুর বিধানসভার ১১টি ওয়ার্ডের জন্য এটাই আমাদের সেন্ট্রাল ক্যাম্প। ১১টি ডেস্ক রয়েছে যুব-সাথী প্রকল্পের জন্য। সকাল ১০টায় ক্যাম্প শুরু হয়েছে। সেই সময়েই মানুষের যে উপস্থিতি আমরা দেখেছি, তাতে স্পষ্ট মানুষ এই প্রকল্পকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁরা আস্থাশীল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হবেই।’

সকাল থেকেই বনগাঁ থেকে কলকাতা— এই বেকার ভাতার জন্য দিকে দিকে লম্বা লাইন।



