

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী কারা? কে কোন কেন্দ্র থেকে টিকিট পাচ্ছেন? মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে তা জানাবেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর একটু পরে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই ভবানীপুরে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিলেন নেতা-কর্মীরা। ধরে নেওয়া হয়েছে, তিনিই আবার প্রার্থী হচ্ছেন। ভবানীপুরে এ বার বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীকে।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা
বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন বিশ্বজিৎ দাস। বনগাঁ দক্ষিন কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে ঋতুপর্ণা আঢ্যকে। অন্যদিকে, বাগদা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন মধুপর্ণা ঠাকুর। আর গাইঘাটা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হলো নরোত্তম হালদারকে।
শীতলকুচি- হরিহর দাস
শিলিগুড়ি – গৌতম দেব
ডোমকল- হুমায়ুন কবীর
করিমপুর- সোহম
সাগরদিঘি – বাইরন বিশ্বাস
কান্দি- অপূর্ব সরকার
মালদা- লিপিকা বর্মণ ঘোষ
মোথাবাড়ি- মহম্মদ নজরুল ইসলাম
আলিপুরদুয়ার- সুমন কাঞ্জিলাল
মাথাভাঙা- সাধু বর্মন
মেখলিগঞ্জ (SC)- পরেশ অধিকারী
রায়গঞ্জ-কৃষ্ণ কল্যাণী
চাঁচল-মালদা- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনহাটা- উদয়ন গুহ
নাটাবাড়ি- শৈলেন বর্মা
কুমারগঞ্জ- রাজীব তিরকে
কোচবিহার উত্তর- পার্থপ্রতিম রায়
হাবড়া- জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
অশোকনগর-নারায়ণ গোস্বামী
ভাটপাড়া- অমিত গুপ্তা
নোয়াপাড়া- তীর্ণাঙ্কুর
বরানগর-মদন মিত্র
রাজারহাট-নিউটাউন- তাপস চট্টোপাধ্যায়
স্বপ্না বর্মণ প্রার্থী২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের হাতে গত ফেব্রুয়ারিতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও। জলপাইগুড়ির কন্যা ২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জিতলেও পরে চোটের কারণে খেলা ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি রেলকর্মী। জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে স্বপ্নাকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে প্রার্থী করল তৃণমূল।
২৬-এ নির্বাচনে ২২৬ টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘‘যাদের দিতে পারিনি, তারা যেন আমাকে ভুল না বোঝে। তাদের অন্য কাজে লাগাব দলে। দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।’’
‘‘আমাদের কনফিডেন্স আছে আমরা জিতব। কারণ, আমরা মানুষের সঙ্গে ৩৬৫ দিন থাকি। ওরা বসন্তের কোকিল। ভোটের সময় টাকা ছড়ায়। আর্মস নিয়ে হামলা করে। বর্ডার থেকে আপনারা যদি বাইরের লোক ঢোকান, অসম্মান করেন বাংলাকে, সেই দায়িত্ব কিন্তু আপনাদেরই নিতে হবে। দার্জিলিঙে তিনটে আসন আমরা লড়ছি না।’’
‘‘বাংলার অস্মিতাকে, সমস্ত সমাজ, সমস্ত জাতি, বর্ণ এবং ধর্মকে শুভনন্দন জানিয়ে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করতে যাচ্ছি। তার আগে বলি, বিজেপিকে। এত ভয় পাচ্ছেন কেন? এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি না নাড়িয়ে, লক্ষ লক্ষ বাইরের লোক না নিয়ে এসে, গ্যাসের সঙ্কট না করে লড়াইতে আসুন। শান্তি এবং সৌজন্য রক্ষা করে লড়াই হোক। বিজেপির কমিশনকে বলব, ক্ষমা করবেন, ব্রিলিয়ান্ট খেলা খেলছেন।’’
‘‘টুঁটি টিপে ধরবেন বিজেপির। চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারাও ক্ষমা করবে না এদের। আমরা আরও বেশি আসনে জিতব। ‘বয়কট টু বিজেপি’। আমার আবেদন, ‘ভোট ফর তৃণমূল’, ‘ভোট ফর বাংলা।’’’ মমতা আরও বলেন, ‘‘মেঘের আড়াল থেকে খেলবেন না। শুধু প্রার্থী হওয়া ওঁর বাকি আছে।’’ ফের কমিশনকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর।
‘‘আমাদের কনফিডেন্স আছে আমরা জিতব। কারণ, আমরা মানুষের সঙ্গে ৩৬৫ দিন থাকি। ওরা বসন্তের কোকিল। ভোটের সময় টাকা ছড়ায়। আর্মস নিয়ে হামলা করে। বর্ডার থেকে আপনারা যদি বাইরের লোক ঢোকান, অসম্মান করেন বাংলাকে, সেই দায়িত্ব কিন্তু আপনাদেরই নিতে হবে। দার্জিলিঙে তিনটে আসন আমরা লড়ছি না।’’
এসআইআর প্রসঙ্গে মন্তব্য মমতার। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল তিনি।
‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার যদি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকে, তাহলে বার বার বাংলাকে আঘাত করছেন কেন? মনে রাখবেন, বাংলাও প্রত্যাঘাত করবে।’’ এর পর আমলা এবং পুলিশ আধিকারিকদের বদলি নিয়ে মোদী সরকার তথা বিজেপিকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর।
‘‘বাংলার অস্তিত্বের লড়াই এটা। দিল্লি জিতবে না। আমাদের হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। একটা ক্ষমতা কাড়তে পারেননি। সেটা মানুষের ক্ষমতা।’’

আজ মঙ্গলবার বিকেল সওয়া ৩টের সময়ে কালীঘাটে তাঁর বাসভবন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী (TMC Candidate list 2026) তালিকা ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠা শুধু জোড়াফুল পরিবারে নয়, কৌতূহল রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও। সবচেয়ে বড় আগ্রহ রয়েছে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সম্ভাব্য কাউন্টার মুভ নিয়ে। ভাবনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তার পর নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনও নেতাকে প্রার্থী করিয়েই তৃণমূল ক্ষান্ত থাকবে, সেটা অভিষেকের মেজাজের সঙ্গে যায় কি?
এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তার দু’ঘণ্টার মধ্যে কালীঘাটের বাসভবন থেকে প্রার্থী তালিকা পড়তে শুরু করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং অহেতুক আন্দাজের অবকাশ নেই। তবে সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে বিপুল আগ্রহ রয়েছে,।

বিধানসভা ভোটের মুখে আবার শিবির বদলালেন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা পবিত্র কর। মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তাঁর হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা তুলে নেন পবিত্র। তিনি তৃণমূলে ফিরতেই এই বিধানসভা ভোটে ‘শুভেন্দু বনাম পবিত্র’ গুঞ্জন নন্দীগ্রামে। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা প্রকাশের ঠিক আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রের চেনা মুখ তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল। ঝাড়গ্রামে তৃণমূলে যোগ দেন সাধু রামচান মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অফিসার মঙ্গল সোরেন। কৃষ্ণনগরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সমাজসেবী অভিনব ভট্টাচার্য।

রাজ্যে বিধানসভা ভোটে ২৯৪ টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৯২টিতে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। ১৪৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি-ও। এ বার রাজ্যের শাসকদল প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করবে। আপডেট জানতে পেজটি রিফ্রেস করুন





