WB Election 2026 Phase 2 Live Update: কালীঘাটে বিজেপি প্রার্থীকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, দৌড়ে এলাকা ছাড়লেন শুভেন্দু, বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ , ‘বড় ব্যবধানে জিতব’, ভবানীপুরে গন্ডগোলের আগে দাবি বিরোধী দলনেতার

0
17
বনগাঁ উত্তরের বুথে পুলিশ ওবাহিনীর ঘেরাটোপে চলছে ভোট গ্রহণ: ছবি রতন সিনহা ।

প্রথম দফার ভোট মিটেছে ২৩ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ৭জেলার, ১৪২ আসনে শুরু, প্রার্থীদের ভাগ্য পরীক্ষা। শুরু প্রায় তিন কোটি ২১ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রক্রিয়া।

এই ১৪২ আসনের প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২১-এর ভোটের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এই ১৪২ আসনে, তিন জেলা ছাড়া, বিজেপি কার্যত খাতা খুলতে পারেনি চার জেলায়। ১৪২ আসনের মধ্যে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১২৩ আসন, বিজেপি ১৮, অন্যান্য ১। বঙ্গ ভোটের এই দফায় হেভিওয়েট কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি, শুভেন্দু অধিকারী, ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নওশাদ সিদ্দিকি, স্বপন দাশগুপ্ত, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, তাপস রায়ের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা। শুরু তাঁদের ভাগ্যপরীক্ষা।

সকাল ১১টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হার ৩৯.৯৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে ৪৪.৫০ শতাংশ। আপাতত সবচেয়ে কম কলকাতা দক্ষিণে। সেখানে ভোট পড়েছে ৩৬.৭৮ শতাংশ।

কালীঘাটে বুথ পরিদর্শনে গিয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২১৭ এবং ২১৮ নম্বর বুথের সামনে তিনি গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘চোর স্লোগান’ দেওয়া হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সকলেই বহিরাগত। তাঁর উপর আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু। এই পরিস্থিতিতে ফোন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ওই এলাকায় আরও বাহিনী পাঠানোরও অনুরোধ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ফোনে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আরও সিআরপিএফ পাঠান।’ এই নিয়ে উত্তেজনার সময় পাল্টা ‘পিসি চোর’, ‘ভাইপো চোর’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও তোলেন বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা।

বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘুরছেন শুভেন্দু। সকালে চক্রবেড়িয়ায় মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় মুখোমুখিও হয়েছিলেন তিনি। তা নিয়ে একপ্রস্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এর পর কালীঘাটে জয় হিন্দ ভবনে বিরোধী দলনেতা বুথ পরিদর্শনে যেতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হরিশ মুখার্জি লাগোয়া রাস্তায় তাঁকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। শুভেন্দু দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা কেউই এলাকায় বাসিন্দা নন। তাঁরা বাইরের লোক। এর পরেই সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় কোনও এক ব্যক্তিকে ফোন করতে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থীকে। ফোনে তাঁকে আরও বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করতে দেখা যায়। এই ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লিখেছেন, ‘ভবানীপুরের সত্য সামনে চলে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছতেই ভুয়ো ভোটার ধরা পড়ল। এত দিন ধরে ভুয়ো ভোটারদের ভোটেই জিতেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এ বার তা ঘটবে না। বাংলার মানুষ দেখছেন এবং প্রতিরোধ করছেন।’

পাল্টা তৃণমূলের দাবি, এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোটই হচ্ছিল। শুভেন্দুই উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জায়গায় জায়গায় এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন উনি। তাই মা-বোনেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কেউ ওঁকে আক্রমণ করেননি। ভোট শান্তিপূর্ণই হচ্ছিল।’

পরে অবশ্য ঘটনাস্থলে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জেরও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দৌড়ে এলাকা ছাড়তে দেখা যায় শুভেন্দুকে। কলকাতা পুলিশের কর্তা দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং বলেন, ‘কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তাই আমরা এসেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।’

কালীঘাটে যাওয়ার আগে মিত্র ইনস্টিটিউশনের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা এই বুথেরই ভোটার। সেখানে গিয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘এই বুথেও আমি জিতব।’ তাঁর সংযোজন, ‘ভবানীপুরে মূল গণ্ডগোল করে ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড। কেন্দ্রীয় বাহিনী ভাল করে এই দুই জায়গায় টাইট দিয়ে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৫% ভোট পড়েছে। এর পর আর বৃষ্টি হবে না। ফলে পরবর্তী ২ ঘণ্টায় হু হু করে ভোট বাড়বে। ৮০% ভোট পড়লে আমি জিতব। ৯০% ভোট পড়লে ব্যবধান বাড়বে। ৭৭ ছাড়া বাকি সব কটি ওয়ার্ডেই আমি এগিয়ে থাকব।’

শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে ভোটের খোঁজ নিয়েছেন। বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘আমি ধীর গতিতে ভোট হওয়ার বিষয়টি বলেছি। উনি পরামর্শ দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে। ভোটারদের অনুরোধ করব, এ বারের ভোট অন্য রকম। বড় দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। একটু সময় দিন। হয়তো একটু অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু ভোট না দিয়ে বাড়ি যাবেন না। সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যা ভূমিকা, তাতে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর লোকেদের মুখ শুকিয়ে গিয়েছে।’

বাংলার দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেও ভোটারদের রেকর্ড ভোটদানে উৎসাহ দিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফা ভোটেও বাংলার ভোটারদের রেকর্ড ভোটদানে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডলে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। তিনি লিখেছেন,‘আজ যাঁরা ভোট দিচ্ছেন তাঁদের সকলকে রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও প্রাণবন্ত এবং অংশগ্রহণমূলক করে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

https://x.com/i/status/2049300383521231234

সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ভোট পড়ল ১৮.৩৯%, জেলায় কত? 
দ্বিতীয় দফাতে বাংলায় সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার ১৮.৩৯%। ভোট শুরুর পরে প্রথম দু’ঘণ্টায় হুগলিতে ভোট পড়ল হুগলিতে ২০.১৬%, হাওড়ায় ১৭.৭৬%, কলকাতা উত্তরে ১৭.২৮%, কলকাতা দক্ষিণে ভোট দানের হার ১৬.৮১%, নদিয়ায় ১৮.৫০%, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭.৮১%, পূর্ব বর্ধমানে ২০.৮৬% এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোট পড়ল ১৭.২৫%।

বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে  ভোটারদের দীর্ঘ লাইন । ছবি তুলেছেন  সুব্রত বক্সী ।

কলকাতায় উৎসবের মেজাজ!
ভোর থেকে থিকথিকে ভোটের লাইন! কলকাতায় উৎসবের মেজাজ, সর্বকালের ভোটদানের রেকর্ড কি ভেঙে যাবে? প্রশ্ন উঠছে কারণ, যে কলকাতা সাধারণত ভোটের দিন একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে, সেই তিলোত্তমা আজ সাতসকাল থেকেই বুথের লাইনে সার দিয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার মেজাজটা ঠিক ‘ভোট দেওয়া’ নয়, বরং যেন ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ সামিল হওয়ার।

ভোটের দিনে একই বুথে উপস্থিত শুভেন্দু ও মমতা
ভোটের দিনে প্রায় মুখোমুখি ভবানীপুরের দুই প্রার্থী। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার যে বুথে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘক্ষণ ধরে রয়েছেন, সেখানেই এসে হাজির হলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সুপ্রিমো অনতিদূরে দূরেই তাঁর পার্টির জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় বসে রয়েছেন। এলাকায় মোতায়েন বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। গাড়ি থেকে নেমে শুভেন্দু বলেন, ‘কোনও গুন্ডামি করতে দেব না।’

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে CRPF, অভিযোগ মমতার
ভবানীপুরে বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিয়ো দেখিয়ে তাঁর অভিযোগ, ‘মঙ্গলবার রাতে তৃণমূল কর্মীর বাড়ি গিয়ে ভয় দেখায় CRPF। গোটা এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। নির্বাচন কমিশন কতগুলো অবজার্ভার এনেছে, বিজেপি যা বলছে তাই করছে। রাতভর অত্যাচার চালিয়েছে অবজার্ভাররা। বিজেপি যা বলছে, তাই করছে। টেররিজ়ম চালাচ্ছে একেবারে।’ ভাঙড় ডিভিশনের একটি থানার ওসি-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী।

ভোট দিয়ে কমিশনকে তোপ অভিষেকের
মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথ থেকে বেরিয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, নানা জায়গায় হুমকি, হুঁশিয়ারি দিয়ে ভোট করানো হচ্ছে। তবে তিনি এও বলেন, মানুষের ওপর আস্থা আছে। যে ভাবে বাংলার মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে, ৪ মে-র পর বিজেপির দফারফা হবে।

দ্বিতীয় দফার ভোটে মোতায়েন ২৩২১ কোম্পানি বাহিনী

দ্বিতীয় দফার ভোটে পুলিশ জেলা ভিত্তিক বাহিনী মোতায়েন চূড়ান্ত করল কমিশন। সেই অনুযায়ী—
বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন ১১২ কোম্পানি
বনগাঁ পুলিশ জেলায় ৬২ কোম্পানি
বসিরহাট পুলিশ জেলায় থাকছে ১২৩ কোম্পানি
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ৫০ কোম্পানি,

ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট-এ থাকবে ১৬০ কোম্পানি
সুন্দরবন পুলিশ জেলায় থাকছে ১১৩ কোম্পানি
বারুইপুর পুলিশ জেলায় মোতায়েন ১৬১ কোম্পানি
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১৩৫ কোম্পানি
হাওড়া গ্রামীণে থাকছে ১৪৭ কোম্পানি,
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট-এ ১১০ কোম্পানি
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি বাহিনী
রানাঘাট পুলিশ জেলায় ১২৭ কোম্পানি,

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে মোতায়েন ৮৩ কোম্পানি
হুগলি গ্রামীণে ২৩৪ কোম্পানি,
পূর্ব বর্ধমানে থাকছে ২৬০ কোম্পানি,
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৩ কোম্পানি
এ ছাড়া কলকাতা পুলিশের অধীনে মোতায়েন ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী

Previous articleবাগদার ভোটকেন্দ্র যেন পুজোর মণ্ডপ! পড়ুয়াদের আলপনায় উৎসবের আমেজ বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বুথে: দেখুন ভিডিও
Next articleকালীঘাটে ‘বহিরাগত’ ধরতে ছুটলেন শুভেন্দু! উত্তপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া ,দ্বিতীয় দফায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ৬১.১১ শতাংশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here