‘ভোট চুরি’ মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী । সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতরের উদ্দেশে এই পদযাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। রাহুলের পাশাপাশি আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব-সহ সমস্ত বিরোধী সাংসদরা। দিল্লি পুলিশ সমস্ত বিরোধী সাংসদদের দু’টি বাসে তুলে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
সোমবার দিল্লির রাজপথ সরগরম বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিক্ষোভে। সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হলেও তাঁর অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ।
এদিন সকালে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই এসআইআর ইস্যুতে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। তুমুল হইচইয়ে দুপুর ২টো পর্যন্ত দুই কক্ষের কার্যসূচি মুলতুবি হয়ে যায়। এর পরেই রাহুল গান্ধী , প্রিয়ঙ্কা গান্ধী , ডেরেক ও ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব-সহ প্রায় ৩০০ জন সাংসদের মিছিল সংসদ ভবন থেকে রওনা হয়।
কিন্তু কিছু দূর যেতেই ব্যারিকেড তুলে পথ আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। যদিও বিরোধীদের এই মিছিলে নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তার কারণ এদিন মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করতে চলেছেন তিনি।
মিছিল আটকাতেই শুরু হয় রাস্তায় বসে বিক্ষোভ। ‘ভোট চুরি’ বন্ধের দাবিতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় স্লোগান শোনা যায়। মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ-সহ মহিলা সাংসদেরা ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পোস্টার ও ব্যানারে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তৃণমূল সাংসদদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা— ‘চুপি চুপি ভোটের কারচুপি’।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দলগুলির মধ্যে ছিল দেশের নানা প্রান্তের আঞ্চলিক ও জাতীয় দল। যদিও বর্তমানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বাইরে থাকলেও সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও (আপ)।
বিরোধীদের দাবি, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের শেষেই সেখানে বিধানসভা ভোট। বছর ঘুরতেই বিধানসভা নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম এবং তামিলনাড়ুতেও। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিজেপির সুবিধা করে দিতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।



