Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

TMC মতুয়া গড়ে হারানো জমি দখলে এক হয়ে লড়ার বার্তা অভিষেকের

deshersamay

Share article:

দেশের সময় : উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া গড়ে জোড়াফুলের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তৃণমূলের নেতা–নেত্রীদের জড়িয়ে না–পড়তে নির্দেশ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠাকুরবাড়ির বিবাদে তৃণমূল নেতারা জড়িয়ে পড়লে দলের মূল লক্ষ্য থেকে দল বিচ্যুত হবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন।

উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া গড়ে জোড়াফুলের হারানো জমি ফেরানোই তৃণমূলের মূল লক্ষ্য। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত বিধানসভাগুলিতে জোড়াফুলের ভোট ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে বাড়লেও এখনও গেরুয়া শিবির এগিয়ে আছে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে বনগাঁ সাংগঠনিক জে‍লার নেতৃত্বকে অভিষেক বাগদা, গাইঘাট, বনগাঁ উত্তর এবং বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ দিন দমদম–ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমায় চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি লিড নিয়েছিল। ’২৬–এর আগে এই চারটি কেন্দ্রে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে এই সাংগঠনিক জে‍লার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক।

ঠাকুরবাড়ি নিয়ে এখন শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সুব্রত ঠাকুরের অনুগামীদের মধ্যে প্রবল বিবাদ চলছে। এই বিবাদে সুব্রতকে সমর্থন করেছেন মমতাবালা। এই বিবাদ ঘিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে বলে অনেকের পর্যবেক্ষণ। এই পরিস্থিতিতে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তৃণমূলের কোনও নেতা যাতে জড়িয়ে না–পড়েন, সেটা এ দিন স্পষ্ট করেছেন অভিষেক।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কী কী উন্নয়নের কাজ করেছেন, তা নিয়ে প্রচারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এ দিন বৈঠকের পর মমতাবালা বলেন, ‘বিজেপি–তৃণমূলের বিষয় এটা নয়, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে গোলমাল হয়েছে। আমার কাছে একজন এসেছিলেন, আমি বাড়ি বড় বউমা। ও ছোট। আমি বলেছি, ছেলে হোক মেয়ে হোক, সমান অধিকার থাকা উচিত। এটা পার্টির বিষয় নয়।’

বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায় বিশ্বজিতের অনুগামীদের সঙ্গে মমতাবালার অনুগামীদের সম্পর্ক মসৃণ নয়। এই কারণে নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়িয়ে বাগদা, গাইঘাটা এবং বনগাঁর দু’টি বিধানসভা আসনে বুথে বুথে টানা প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। বিশ্বজিতের কথায়, ‘কিছু সমস্যা আছে, কিছু জায়গায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। আমরা সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

২০১৯–এর লোকসভা ভোটের তুলনায় ২০২৪–এ দলের ভোট বেড়েছে। এখন বনগাঁ মহকুমার সমস্ত বিধানসভায় আমরা জেতার জায়গায় রয়েছি। এই বৈঠকে নেতৃত্ব সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে বলেছেন।’

যদিও ’২৬–এও মতুয়া–গড়ে গেরুয়া পতাকা উড়বে বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘২০২১–এর বিধানসভা ও ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে যে ফলাফল হয়েছিল, ২০২৬–এ তার পুনরাবৃত্তি হবে। আসন সংখ্যা আরও বাড়বে।’

বনগাঁর তুলনায় তৃণমূলের জোরালো সংগঠন রয়েছে দমদম–ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায়। ২০২১–এ জোড়াফুল এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সমস্ত বিধানসভায় যে ভোট পেয়েছিল,’২৪–এ তা পায়নি। জগদ্দল, বীজপুর ও ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জোড়াফুলের ভোট কমেছে। এই কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।

দমদম লোকসভার অন্তর্গত একাধিক বিধানসভাতে একই ঘটনা ঘটেছে। রাজারহাট–গোপালপুর, দমদম এবং দমদম উত্তর কেন্দ্রে ২০২৪–এ জোড়াফুলের লিড কমেছে। ব্যারাকপুর ও দমদম লোকসভার একাধিক জায়গায় সাংগঠনিক নেতৃত্বের বদল হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে বলে এ দিন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন