

শুক্রবার ১৯তম দুবাই এয়ার শোতে প্রদর্শনীর সময়ে ঘটে গিয়েছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভারতের নিজস্ব হালকা যুদ্ধবিমান তেজস ভেঙে পড়ে শহিদ হয়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অদম্য সাহসী পাইলট, উইং কমান্ডার নমাংশ স্যাল (Nomangsh Syal)। মাত্র ৩৪ বছর বয়সি এই তরুণ অফিসারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে হিমাচল প্রদেশ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই রাজ্যেরই বাসিন্দা ছিলেন নমাংশ। তরুণ উইং কমান্ডারকে হারিয়ে কার্যত গোটা দেশই শোকে মূহ্যমান। যা ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু।

উইং কম্যান্ডার নমংশ স্যালে হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বীরপুত্র ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু শোকপ্রকাশ করে বলেন, “তাঁর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক। দেশ একজন বীর, কর্তব্যপরায়ণ এবং সাহসী পাইলটকে হারিয়ে ফেলল। শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীরভাবে সমবেদনা জানাচ্ছি।”

উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালের স্ত্রী আফসান-ও একজন IAF অফিসার। তাঁদের এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যা আছে। নমাংশের বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা জগন নাথ এবং মা বীণা দেবী তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে হায়দরাবাদে এসেছিলেন। কিন্তু ছেলের সঙ্গে তাঁদের দেখা আর হলো না।

পাতিয়ালাকাড় গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর শুনে গ্রামবাসীরা শোকাহত। তাঁদের মতে, নমাংশ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। তাই শোকের আবহেও গ্রামের এই ‘বীরপুত্রে’র জন্য তাঁরা গর্বিত।

নমংশ স্যালের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই দুবাই এয়ার শোয়ের মধ্যেকার তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল। আর সেই এয়ার শোয়ের শেষ দিনেই সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল।
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) তেজস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গর্বের বিষয়। এটি একটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যাকে বিশেষজ্ঞরা এই শ্রেণির সবচেয়ে ছোট এবং হালকা বিমান বলে মনে করেন।

তেজস (একটি ইঞ্জিন ও একজন পাইলট-সহ) সর্বাধিক ৪,০০০ কেজি অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে পারে এবং টেকঅফের সময় এর সর্বাধিক ওজন হতে পারে ১৩,৩০০ কেজি। ১৯৮৩-৮৪ সালে এই দেশীয় যুদ্ধবিমান তৈরির স্বপ্ন দেখা শুরু হয় এবং ২০০৩ সালে সরকারিভাবে এর নাম হয় ‘তেজস’। ১৯৯৮ সালে পরমাণু পরীক্ষার পর আমেরিকা সরে গেলেও, ভারত একাই এই বিমান তৈরি করে তাকে দেশের গর্বে পরিণত করে।

বর্তমানে তেজসের তিনটি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে—মার্ক ১, মার্ক ১এ এবং মার্ক ২। ২০১৬ সালে এটি প্রথমবার ভারতীয় বায়ুসেনার ৪৫ নম্বর স্কোয়াড্রনে (ফ্লাইং ড্র্যাগার্স) অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং বর্তমানে বায়ুসেনার দুটি স্কোয়াড্রনে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছর অগস্টেই ভারত সরকার ৯৭টি তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তেও ছাড়পত্র দিয়েছে।



