

বনগাঁ : রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এমনিতেই চাপে রয়েছে মতুয়া সমাজ । সম্প্রতি তাঁদের আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছিল বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের একটি মন্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ১ লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ যেতে পারে! SIR-এর বিরোধিতায় পথে নেমেছিলেন মতুয়াদের একাংশ। সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর অনশনেও বসেছিলেন। বুধবার সেই মতুয়া গড় থেকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একগুচ্ছ আশ্বাস দিলেন ।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে আশঙ্কায় রয়েছে মতুয়া সমাজ, তা কিছুটা নিরসন করার চেষ্টা করেন শুভেন্দু। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরে আরএস মাঠে মতুয়া ধর্ম মহা সম্মেলনে তাঁর বার্তা – ভোটার তালিকা থেকে কোনও মতুয়ার নাম বাদ দিতে দেব না। তবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাম থাকতেও দেব না। একই সঙ্গে তিনি এ তথ্যও দেন যে, সিএএ-তে ইতিমধ্যে ৬০ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। ১ হাজারের বেশি শংসাপত্রও পেয়ে গেছেন।

বিজেপি দাবি করে আসছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের নাম ভরে গেছে। এসআইআর হলে সেই নাম বাদ যাবে যে সংখ্যাটা হতে পারে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন, ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম যাওয়ার মধ্যে যদি ১ লক্ষ মতুয়ারা থাকেন তাহলে এটুকু সহ্য করতে হবে। কিন্তু মতুয়াগড়ে সভা করে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা – একটি নামও তিনি বাদ দিতে দেবেন না।

প্রসঙ্গত, বুধবারই অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে।

শুভেন্দুর বক্তব্যে আবার ফিরে আসে তৃণমূলের ভুল বোঝানো প্রসঙ্গ। বলেন, এসআইআর নিয়ে মানুষকে লাগাতার ভুল বুঝিয়ে আসছে তৃণমূল, ঠিক যেমন এনআরসি-সিএএ নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, একদিকে সিএএ-র বিরোধিতা করছে সরকার, অন্যদিকে মানুষকে আবেদনও করতে বলছে। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়, আক্রমণ শুভেন্দুর।
মতুয়াদের কী কী আশ্বাস শুভেন্দুর?
কারা বিডিও অফিস যাবেন জানালেন শুভেন্দু:
যাঁদের নোটিস করবে, তাঁরা যাবেন। ৮৫ বছরের উর্ধ্বরা যাবেন না। বিডিও-রা আসবে।
প্রক্রিয়া বললেন শুভেন্দু:
নাম যদি ERO কাটে। আমি অশোক কীর্তনিয়ার কাছে ফরম্যাট পাঠাব। EO-র কাছে আবেদন করবেন। সেও যদি বাতিল করেন, তাহলে CEO-র কাছে আবেদন করবেন। আর সিইও অফিসে আবেদনের বিষয় দায়িত্ব নেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
হিন্দু কেশাগ্র স্পর্শ করতে কেউ পারবেন না, এমন দাবিও করলেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “CAA-র সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে মতুয়াবাড়ির সার্টিফিকেট কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করছে,করবে। এখনও অবধি ৬০ হাজার মানুষ সিএএ-তে আবেদন করেছেন।” বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন। তিনি বলেন,”যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে কার চাকরি গেছে? কার স্কুলের অ্যাডমিশন গেছে? তাই ক্যা ক্যা ছি ছি বলা সরকার ভুল বুঝিয়েছিল। হাজারের বেশি সিএএ সার্টিফিকেট পেয়ে গেছেন। বাকিও পেয়ে যাবেন।”

এ দিকে, শুভেন্দু যখন মতুয়া গড়ে গিয়ে মতুয়াদের আশ্বাস দিচ্ছেন সিএএ নিয়ে সেই সময়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বললেন শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে যান শান্তনু ঠাকুর। বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। ওনাকে জানিয়েছি, মতুয়ারা নাগরিকত্ব পেতে চলেছে।”



