Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শান্তনুর , উঠল মতুয়া-প্রসঙ্গ? কটাক্ষ তৃণমূলের

deshersamay

Share article:

বাংলায় এসে এক সপ্তাহ আগেই মতুয়াদের ভরসা জোগানোর চেষ্টা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু তাতে চিঁড়ে বিশেষ ভেজেনি। দূর হয়নি ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) নিয়ে মতুয়া সমাজের সামগ্রিক উৎকণ্ঠা। এই আবহে বুধবার মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর৷ কার্যত একই উদ্দেশ্যে এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় মতুয়াভূমে ছোটেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে দিল্লিতে শান্তনু যা দাবি করলেন, তাতে মতুয়াদের উৎকণ্ঠা কমার বদলে আরও বেড়ে গেল বলে ব্যাখ্যা রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মতুয়াদের ভোটাধিকার বা নাগরিকত্ব নিয়ে এ দিন কোনও আলোচনা হয়নি! শান্তনুর কথায়, ‘ভোটাধিকারের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে বলে কিছু হবে বলে আমি মনে করি না। ফলে এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি।’ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এত কষ্ট করে সদলবলে রাষ্ট্রপতির দরবারে যাওয়া কেন? বনগাঁর সাংসদ জানিয়েছেন, আগামী মাসে রাষ্ট্রপতিকে বনগাঁর ঠাকুরনগরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। শান্তনুর কথায়, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’

বিজেপির একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, মতুয়াদের নতুন ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছেন শান্তনু। কিন্তু আলোচনার নির্যাস তেমন ইতিবাচক হয়নি বলেই সাংবাদিকদের সামনে তার উল্লেখ করেননি তিনি। শান্তনুর এই দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷ দলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর তোপ দেগে বলেন, ‘বিজেপি বুঝতে পেরেছে মতুয়ারা আর তাদের সঙ্গে নেই৷ তাই এখন লোক দেখাতে রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করা হচ্ছে!’

সম্প্রতি শান্তনু ঠারেঠোরে বার্তা দিয়েছিলেন, বাংলার ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার স্বার্থে মতুয়া সমাজের একাংশের নামও তা‍লিকা থেকে বাদ যেতে পারে। সেটুকু সহ্য করে নেওয়ার আর্জিও তিনি জানিয়েছিলেন মতুয়াদের কাছে। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এরপরে কলকাতায় এসে শান্তনুকে পাশে বসিয়ে শাহ মতুয়াদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও ভোটার তালিকায় নাম কী ভাবে থাকবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেননি। ফলে সব মিলিয়ে মতুয়া সমাজ নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় বঙ্গ–বিজেপি। তার অভিঘাত সামাল দিতে শান্তনু যেমন এ দিন মতুয়া সমাজের ছ’জন প্রতিনিধিকে নিয়ে বুধবার রাষ্ট্রপতি ভবনে হাজির হয়েছিলেন, তেমনই শুভেন্দু গিয়েছিলেন বনগাঁয়।

সেখানে তিনি বলে‍ন, ‘ভরসা রাখুন প্রধানমন্ত্রীর উপরে। আপনারা সবাই সুরক্ষিত। যাঁরা সিএএ–তে আবেদন করবেন, তার আপিলের বিষয়ে দায়িত্ব আমার।’ ঠাকুরবাড়ির ক্যাম্প এবং মতুয়া মন্দির থেকে দেওয়া নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট ভারত সরকার গ্রহণ করছে বলেও শুভেন্দু দাবি করেন। তাঁকে খোঁচা দিয়ে মমতাবালা বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুরের দেওয়া নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট বৈধ, এটা কি লোকসভা অার রাজ্যসভায় বিল এনে আইন করা হয়েছে?’

এ দিন দিল্লিতে শান্তনু বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সিএএ–এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। তার মধ্যে সাতশো জন শংসাপত্র পেয়েছেন। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, যাতে মতুয়ারা সিএএ–র আবেদনপত্র দেখিয়ে সার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।’

এ দিন, শান্তনু বলেন, “আপনারা এক সময় মানুষকে বুঝিয়েছিলেন CAA ফর্ম ফিলআপ না করতে। এখন যাঁরা ফর্ম ফিলআপ করেনি তাঁরা তো মুশকিলে পড়বে। এখন দায় কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী এবং যেসব সংসদরা বুঝিয়েছেন তখন, এবার তাদের জবাব দিতে হবে।”

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে মমতাবালার কটাক্ষ, ‘যে সাতশো জনকে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে সেই শংসাপত্রও আমাদের দেখানো হোক। যাঁদের ভোটে জিতে শান্তনু ঠাকুর মন্ত্রী হয়েছেন এখন তাঁদেরই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফন্দি এঁটেছেন তিনি। মতুয়ারা সব এখন বুঝে গিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল CAA সার্টিফিকেট তখনই গ্রাহ্য হবে, যখন নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করে আবেদন করবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা বেরিয়ে গিয়েছে। মতুয়াদের মধ্যে অনেকেই CAA-তে আবেদন করে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। কমিশনের তরফে থেকে যে নথিগুলি চাওয়া হয়েছে, সেই তালিকায় নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট নেই। এই সার্টিফিকেটটা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ ছিল। সেটা কমিশন স্পষ্ট করেছে। আজ এই বিষয়টি নিয়েই শান্তনু ঠাকুর তৃণমূলকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর আগে (২০২৪ এর ১২ মার্চ) হাবরার সভা থেকে বলেছিলেন, “যেই CAA পোর্টালে দরখাস্ত করবেন, তখনই আপনাদের এতদিনকার নাগরিকত্ব বাতিল হবে। এতদিন যে সুযোগ সুবিধা পেতেন, তা বাদ হয়ে যাবে। তাই দরখাস্ত করার আগে ভাল করে ভেবে দেখবেন।”

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন