


লেখালেখিতে তিনটি দশক পেরিয়ে গেলেও ৬৭ বছর বয়সে এসে প্রথম গল্পের বই প্রকাশ করলেন গল্পকার ‘দেবাশিস রায়চৌধুরী’। চুলে পাক ধরলেও বিপন্ন সমাজকে পাঁক থেকে তুলতে বরাবরই তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম। ন’য়ের দশকের শেষের দিকে চিঠিপত্র দিয়ে প্রথম লেখালেখি শুরু করলেও ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই গল্পের প্রতি তার তীব্র অনুরাগ জন্মায়।

তারপর থেকেই সামাজিক অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকা মানুষের পক্ষ নিয়ে নিজের বেশিরভাগ গল্পের প্লট নির্মাণ করে যান তিনি। অনায়াসে যা পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছে দশকের পর দশক ধরে। অথচ বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক কিংবা বার্ষিক পত্র-পত্রিকা ছাড়া প্রচারবিমুখ এই মানুষটির লেখাগুলি বই আকারে প্রকাশ পায়নি এতদিনে। তাই ‘বনলতা’ প্রকাশনির উদ্যোগে গত ৬ জুলাই, –

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁতে বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের জগদীশ চন্দ্র ইন্দ্র স্মৃতি অডিটোরিয়ামের ’গঙ্গাচরণ চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি’ মঞ্চে প্রকাশিত হল দেবাশিস রায়চৌধুরীর প্রথম গল্পের বই ‘রং-তামাশা বিষয়ক’। বইটি উদ্বোধনের সময় গল্পকারের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কবি জলধি হালদার, অক্ষর-নির্মাতা অমিত সরকার, সাহিত্যিক সুরঞ্জন প্রামাণিক, চিকিৎসক বিপ্লব কুমার ঘোষ ও গবেষক অজয় মজুমদার। বইটির প্রচ্ছদ নির্মাণ করেন বিশিষ্ট প্রচ্ছদ শিল্পী দেবাশিস সাহা।

রবির বিকেলে ছ’টা থেকে শুরু হওয়া ঘন্টা তিনেকের এদিনের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে দর্শক হয়েছিল চোখে পড়ার মত। গান, আলোচনা ও আবহ সংগীতের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির গাম্ভীর্য বাড়িয়েছিল সঞ্চালক দেবব্রত পাঠক। প্রকাশের দিনই প্রায় পঞ্চাশটির কাছাকাছি বই বিক্রয়ে সক্ষম হয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি। বাণিজ্যিকভাবে বইটির সফলতা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী প্রকাশক সুশোভন দত্ত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাঠকের প্রয়োজনে বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণের প্রস্তুতির কথা।

এদিনের অনুষ্ঠানে বইটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে গিয়ে বিক্ষিপ্ত সময়ের নানান সামাজিক ক্ষয় তুলে ধরেন প্রাবন্ধিক বিশ্বজিৎ ঘোষ। তারই সঙ্গে গল্পকারের স্ত্রী সুপর্ণা ঘোষ রায় ও শিল্পী অহনা সাহা-র গান এবং কবি শশাঙ্ক দে ও শিল্পী শম্পা দে-র গল্পপাঠ বিশেষভাবে দর্শকদের মনোযোগী করে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে গান গাইতে গিয়ে বাবার দীর্ঘ স্বপ্ন পূরণের জন্য আবেগী হয়ে পড়েন গল্পকারের পুত্র সোহম রায়চৌধুরী। বইটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে বহু পাঠক ও লেখকদের মধ্যে বইটি নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায়।




