সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট, কলকাতার ইসকনের ৫৫তম রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী,দু’কলি গানও গাইলেন শুভেন্দু
deshersamay

কলকাতা : রীতি অনুযায়ী সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর রথের রশি টানলেন এবং শেষে জগন্নাথদেবের রথের সামনে আরতি করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এই শুভ পবিত্র রথযাত্রা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে, আমার পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে, আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। …আপনারা শুনলে খুশি হবেন, ইসকনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এবারের বাজেট বক্তৃতায় দেখেছেন, যে আমরা…ছাত্রছাত্রী আগামীদিনের ভবিষ্যত, যে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের প্রধানদায়িত্ব, এটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ইসকন সম্মানের সঙ্গে করছে।এক্ষেত্রে আমরা পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতা মহানগরী আগামী পয়লা আগষ্ট থেকে শুরু করতে চলেছে।এটি একটি পরম প্রাপ্তি আমাদের।

আমাদের সরকার, শুধুমাত্র আধিকারিক এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ সহ আধ্যাত্মিক প্রচার এবং যারা সেবা করেন মানুষের, তাঁদের নিয়ে, বাংলার নবনির্মাণে এগিয়ে যাবো।’

দুপুর ১২টা নাগাদ ইসকনে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে তিনি জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করেন। পুজো দেন। আরতি করেন। তার পর চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। সেখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণামের পর পুরো কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন করবেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে এবং রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় ইসকনের রথযাত্রায় শামিল হতে পারা সৌভাগ্যের বিষয় বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের উন্নয়নও যেমন হবে, পাশাপাশি সংস্কৃতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’’

ইসকনের মন্দিরে পুজো শেষে মুখ্যমন্ত্রী রথদর্শনে যান। সেখানে বিগ্রহে মাল্যদান করেন। তার পর বলেন, ‘‘আজ ভক্তদের দিন।’’ এর পরই সকলের অনুরোধে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গইলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার প্রতীকী আচার পালন করেন। এর মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় ইসকনের রথযাত্রার।

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারও একাধিক বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এ বছর রাজ্যের মোট ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করতে এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ইসকনের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে। মিড- ডে মিলের প্রসঙ্গ উঠলে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই মিড-ডে মিল পুষ্টিগুণসম্পন্ন।’’ বিগত বছরগুলিতে মিড-ডে মিল নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের কাছে সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘রথযাত্রা উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। এই উৎসব ভারতের আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতির ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। রথযাত্রার সঙ্গে জড়িত রীতিনীতি ভারত তথা বিশ্ব জুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’’

