স্লোভাকিয়ায় রুটি-লবণ দিয়ে বরণ করা হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে
deshersamay


১৯৯৩ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়া(Slovakia) সফরে গেলেন। ফলে কূটনৈতিক দিক থেকে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা খোঁজা এবং ইউরোপের (Europe) সঙ্গে ভারতের সহযোগিতা বাড়ানো- এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ব্রাতিস্লাভায় মোদীর ব্যস্ত কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রবিবার মাঝরাতে ব্রাতিস্লাভায় অবতরণ করে তাঁর বিমান। ব্রাতিস্লাভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদীকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন রুটি এবং নুন। স্লোভাক ঐতিহ্য অনুযায়ী যা সম্মান এবং আন্তরিকতার প্রতীক। মোদীর অভ্যর্থনার জন্য বিমানবন্দরে বেজে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান। স্লোভাক গায়ক-গায়িকারা বৈদিক মন্ত্রও পাঠ করেন।

বিমানবন্দরে নেমে ভারত ও স্লোভাকিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মোদী X-এ লেখেন, ‘এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার এটাই সুযোগ আমাদের।’ দুই দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পিটার পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদীর। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে স্লোভাকিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তিনি।

ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেল প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের ইউরোপ নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

এই সফরের আগে মোদী ফ্রান্সে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনেও যোগ দেন।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
১৮ জুন প্যারিসে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ মঞ্চ ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন মোদি। ফলে এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্যেইই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর।

Leave a Reply