

বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ, গাইঘাটা এবং বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র মূলত মতুয়া অধ্যুষিত।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পাঁচ মাস অতিক্রান্ত।

মতুয়া গড় বলে পরিচিত উত্তর ২৪ পরগনার খাস ঠাকুরবাড়ি ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে কমিশনের নির্ধারিত নথি জমা দিতে না পারায় মতুয়া গড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁ মহকুমায় চার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৮ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

কমিশনের তথ্য বলছে, বনগাঁ মহকুমায় সার–এর শুনানি এড়িয়েছেন প্রায় ১৮ হাজারের বেশি ভোটার। তার সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।

নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভায় মোট ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৭২২ জন ভোটারকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় দু’লক্ষ মানুষ শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। বাগদা বিধানসভায় ৬০ হাজার ৯২৬ জনকে নোটিস পাঠানো হলেও তার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষ শুনানি এড়িয়েছেন। বনগাঁ উত্তর বিধানসভার ক্ষেত্রে ৫৪ হাজার ৪৯৩ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় চার হাজার ভোটার অনুপস্থিত থেকেছেন শুনানিতে। বনগাঁ দক্ষিণে ৪৭ হাজার ৮৮৯ জন নোটিস পেয়েছেন। তার মধ্যে শুনানিতে যাননি চার হাজার ভোটার।

গাইঘাটা বিধানসভার ক্ষেত্রে ৫৪ হাজার ৪০৪ জনকে নোটিস ধরানো হয়েছে। শুনানিতে যাননি পাঁচ হাজারের মতো। নথি না থাকায় বাগদায় ‘অযোগ্য’ ভোটার ২০ হাজার ৯৭ জন। বনগাঁ উত্তরে অযোগ্য ভোটারের সংখ্যা ৯ হাজার ৯১০, বনগাঁ দক্ষিণে ৯ হাজার ২৩৯ জন এবং গাইঘাটায় ৮ হাজার ৭৭১ জনকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। ফলে, তাঁদের নাম কাটা গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সবমিলিয়ে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ১৭ জন। এছাড়া শুনানি এড়িয়েছেন সাড়ে ১৮ হাজার ভোটার।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর বলেন, ‘এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু তার আগে আমরা যেটুকু জানতে পেরেছি, সেটা মতুয়াদের পক্ষে খুব উদ্বেগজনক। বনগাঁর চারটি বিধানসভা থেকে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার ভোটারদের নাম কাটা গিয়েছে। এই সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি পাবে। মতুয়াদের সংখ্যাটাই বেশি। চূড়ান্ত তালিকা দেখে মতুয়াদের নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।’ বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেতারা জানিয়েছেন, যাঁদের নাম কাটা যাবে, তাঁরা সামনের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে, সিএএ–এর মাধ্যমে আবেদন করলে মতুয়ারা এ দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন।




