SIR আবহে মতুয়াদের তাহেরপুরে মোদীর জনসভা: কী কী প্রসঙ্গ উঠতে পারে

0
302

বিধানসভা নির্বাচনের আর মাস পাঁচেকও বাকি নেই। এসআইআর আবহে বেশ কয়েকটি জায়গায় সভা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শনিবার মতুয়াগড় রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরে শনিবার প্রশাসনিক কর্মসূচি ও জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । তাহেরপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এসআইআর আবহে মতুয়াদের একটা বড় অংশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক কারবারিরা বলছেন, সেদিক থেকে তাহেরপুরকে বেছে নেওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে নমঃশূদ্র মতুয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। নদিয়ার বৃহৎ অংশ রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকা। এই সীমান্তবর্তী এলাকায় ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের সিএএ-তে আবেদন নিয়ে বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজেপির সেই সভার জন্য তাহেরপুরকে গেরুয়া পতাকা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকে দেখা গেল, পুলিশ কুকুর নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী । জাতীয় সড়ক সংক্রান্ত দু’টি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি এই সফরে রানাঘাট–বনগাঁ এবং সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এসপিজি । কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই তাহেরপুর ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। শুধু সভাস্থল নয়, গোটা এলাকা জুড়েই মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের বড় বাহিনী। তাহেরপুর থানার কাছে প্রধানমন্ত্রীর হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী বীরনগরের বিভূতি পার্কে গডকড়ীর জন্য তৈরি হেলিপ্যাড— সব জায়গাতেই চলছে নজরদারি ।

তাহেরপুরের কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই হেলিকপ্টারে কলকাতায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিমান ধরে তিনি রওনা দেবেন অসমের গুয়াহাটির উদ্দেশে।

তাহেরপুরের নেতাজি পার্ক ময়দানে আয়োজন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভা। সভাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কলকাতায় নামবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারে তিনি রওনা দেবেন তাহেরপুরের উদ্দেশে। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তাহেরপুর থানার কাছে শ্মশান মাঠের হেলিপ্যাডে নামার কথা মোদীর। ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি পৌঁছবেন সভাস্থলে।

প্রথমে আধ ঘণ্টার প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে সেই সভা। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, সেখানে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ৬৮ কিলোমিটার অংশ চার লেনে করার কাজ শেষ হয়েছে। সেই অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বারাসত থেকে বড়জাগুলি পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক চার লেন করার প্রকল্পের শিলান্যাসও করবেন তিনি।

এর পর বেলা ১২টা থেকে ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন মোদী। এসআইআর শুরুর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর হওয়ায়, তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে সব রাজনৈতিক শিবিরেই। বিশেষ করে মতুয়াপ্রধান এই এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাসমূলক বার্তা দিতে পারেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। ওই উদ্বেগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত পৌঁছেছে বলেই বিজেপির বক্তব্য।

যে এলাকায় মোদীর জনসভা, তার আশপাশেই ফুলিয়া ও শান্তিপুর—তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। ফলে তাঁতশিল্পীদের উদ্দেশে আলাদা কোনও বার্তা থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে দেওয়া ভাষণগুলিতে বাঙালির গৌরব ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। নদিয়া জেলায় সভা হওয়ায়, তাহেরপুরের মঞ্চ থেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর মাহাত্ম্যও উঠে আসতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কথায়।

Previous articleমতুয়াদের দ্রুত নাগরিকত্ব দিন, প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি গাইঘাটা বিধায়কের
Next articleরাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু , লাইনচ্যুত ৫ টি কামরা  ব্যহত রেল পরিষেবা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here