SIR: শুধু রাজ্য নয় ,BLO-দের নিরাপত্তা দেওয়া কমিশন এবং কেন্দ্রেরও দায়িত্ব , নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

0
87

BLO-দের উপর কাজের চাপের পর এ বার তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। SIR-এর কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই অভিযোগ পেয়ে SIR সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গে BLO-দের নিরাপত্তার ইস্যুতে নোটিস জারি করল শীর্ষ আদালত। BLO-দের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট৷

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। বিএলও-দের নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকেও দায় নিতে বলল সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, শুধু রাজ্য নয়, বিএলও-দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কেন্দ্র এবং কমিশনের ওপরও বর্তায়। তবে রাজ্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হবে।

বিএলও নিয়ে কী নির্দেশ
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বিএলও-দের উপর চাপ কমাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যকে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, এসআইআরের কাজে যেখানে ১০ হাজার জন বিএলও-কে নিয়োগ করা হয়েছে, সেখানে আরও ৩০ হাজার জনকে নিয়োগ করা যেতেই পারে। তাতে চাপ কমতে পারে বিএলও-দের। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে বলে, কোনও বিএলও কাজ থেকে অব্যাহতি চাইলে, বিশেষত কেউ অসুস্থ হলে, তাঁকে ছুটি দেওয়া হোক। সেই বিএলও-র বদলে নতুন বিএলও নিয়োগ করা হোক।

দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে কমিশনকে
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘অবশ্যই কমিশনকে পদক্ষেপ করতে হবে। না হলে অরাজকতা তৈরি হতে পারে। এর আগে আমরা বিএলও নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, তা সব রাজ্যের জন্যই প্রযোজ্য।’’ দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় পড়লে বিএলও-রা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। তাঁদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ওই বিষয়ে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপ করেন।


অন্য রাজ্যে কী পরিস্থিতি?
দুই বিচারপতির বেঞ্চের কথায়, নির্বাচন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কমিশনের অধীনে আসে না। এর পরেই বিচারপতি বাগচী জানতে চান, অন্য রাজ্যগুলিতে কী পরিস্থিতি? শুধু কি পশ্চিমবঙ্গেই বিএলও-রা হুমকির মুখে পড়ছেন? না কি অন্য রাজ্যেও একই সমস্যা হচ্ছে?

বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, কোনও রাজ্যের সরকার যদি বিএলও-দের নিরাপত্তা দিতে সহযোগিতা না করে, তা হলে তা সুপ্রিম কোর্টকে জানাতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই মতো রাজ্যকে নির্দেশ দেবে শীর্ষ আদালত। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যকে চিঠি দেবে কমিশন
কমিশনের তরফে জানানো হয়, তারা শীঘ্রই রাজ্যকে চিঠি দেবে বিএলও-দের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে।


‘কারও কাজ করতে অসুবিধা থাকলে নতুন বিএলও নিয়োগ করুন’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে যাচ্ছি না। যে সব বিএলও-র কাজ করতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ করুন। বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও দেখুন।’’

বিএলও-দের অতিরিক্ত চাপ নয়
বিচারপতি বাগচী বলেন, এমনও অভিযোগ উঠছে যে বিএলও-দের উপর প্রচুর চাপ দিচ্ছে কমিশন। তাতে নির্বাচন কমিশন জানায়, একজন বিএলও গড়ে প্রতি দিন ৩৭ জন ভোটারের দায়িত্ব নেন। প্রতি দিন ৭-৮টি বাড়ি ঘুরলেই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। উত্তরে বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘আমরা কোনও রাজনৈতিক বক্তৃতা নিয়ে আলোচনা করছি না। আমরা বলছি, বিএলও-দের উপর অতিরিক্ত চাপ যেন না আসে। তাঁরাই মূল কাজটি করছেন। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, তথ্য আপলোড করছেন। এটা বসে থাকার মতো কাজ নয়। সেই কারণে আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রয়োজনে বিএলও-র সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক। কমিশনকে দেখতে হবে কোনও অসুবিধা ছাড়া বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে।’’

দায় কেন্দ্র ও কমিশনেরও: সুপ্রিম কোর্ট
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারেরও কাজ বিএলও-দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার। কমিশন জানায়, বিএলও-দের নিরাপত্তা দিতে রাজ্যকে সহযোগিতা করতে হবে। তারা সহযোগিতা না করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হবে।


কত জনকে হুমকি?

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন করেন, কমিশনের কাছে বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার মাত্র একটি অভিযোগ এসেছে। এখনও পর্যন্ত একটিই এফআইআর হয়েছে। এর বাইরে কি আর কোনও ঘটনা নেই? জবাবে কমিশন যুক্তি দেয়, বিএলও-দের নিরাপত্তা দেওয়ার দায় রাজ্যের। কারণ, পুলিশ রাজ্যের অধীনে রয়েছে।

ভয় দেখানো হচ্ছে বিএলও-দের!
আইনজীবীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিএলও-দের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসআইআরের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, শুধু রাজ্য  নয়, বিএলও-দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কেন্দ্র এবং কমিশনের ওপরও বর্তায়। তবে রাজ্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর  সাহায্য নেওয়া হবে। এদিকে বিএলও-দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে, প্রয়োজনে বিএলও-র সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক, তবে বিএলও-দের ওপর অতিরিক্ত চাপ যেন না আসে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে কমিশনকে। 

এদিন মামলার শুনানিতে বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। আইনজীবী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বিএলও-দের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসআইআরের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত জানতে চায় কত জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কারণ তথ্য বলছে, কমিশনের কাছে বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার মাত্র একটি অভিযোগ এসেছে। এখনও পর্যন্ত একটিই এফআইআর হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই নিরাপত্তা ইস্যুতে কমিশন ও কেন্দ্রকেও দায় নিয়ে বলেছে আদালত।

কাজের অতিরিক্ত চাপের ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, কারও কাজ করতে অসুবিধা থাকলে নতুন বিএলও নিয়োগ করতে হবে। কমিশনকে নির্দেশ, যে সব বিএলও-র কাজ করতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ করুন। গোটা বিষয় নিয়ে কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ করতেও বলেছে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। বিএলও-দেরও জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় পড়লে বিএলও-রা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। 

Previous articleডিসেম্বরের শহরে – গ্রামে শীতের আমেজ,  চলতি সপ্তাহেই রেকর্ড ঠান্ডা বাংলায়? আবহাওয়ার লেটেস্ট আপডেট জানুন
Next articleঘন কুয়াশার দাপট! ‘নিখোঁজ’ হবে না তো শীত? কী জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here