

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে তলব করা হয়েছে সাংসদ অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে। তাঁর পরিবারের আরও তিন সদস্যও নোটিস পেয়েছেন।
২০২৫-এর শেষের দিকে রাজ্য জুড়ে শুরু হওয়া SIR প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ—দু’ই বাড়ছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্যের যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠে আসায় ইলেকশন কমিশনের প্রাথমিক খসড়া তালিকায় অনেকের নামই জায়গা পায়নি।

সেই পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতেই একে একে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। আর সেই সূত্রেই এবার অভিনেতা-সাংসদ দেবের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে নোটিস।
সোমবার সকালেই এই খবর সামনে আসে। কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, SIR প্রক্রিয়ার আওতায় নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে দেবকে। প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম সংক্রান্ত যে তথ্যগত অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার জন্যই এই শুনানি।

তবে প্রশাসনিক মহলের মতে, SIR প্রক্রিয়ায় শুনানিতে ডাকা মানেই কোনও অভিযোগ বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমনটা নয়। বরং এটি তথ্য যাচাই ও সংশোধনের সুযোগ।

শুনানিতে উপস্থিত হয়ে দেবকে প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা পেশ করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে আরও বহু নাগরিকের কাছেই আগামী দিনে এমন নোটিস পৌঁছতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত। ইতিমধ্যে ডাক পাচ্ছেনও অনেকে। সব মিলিয়ে, SIR প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হওয়া এই শুনানি পর্ব রাজ্যের ভোটার তালিকাকে আরও নিখুঁত করতেই, এমনটাই দাবি ইলেকশন কমিশনের।

প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে চলা SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যখন একের পর এক শুনানির নোটিস পৌঁছচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে, তখনই সামনে আসছে এক বড় বাস্তব সমস্যা—শুনানি কেন্দ্রের দূরত্ব। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত শুনানি কেন্দ্র বাড়ি থেকে ৩০–৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূরে। ফলে চাইলেও সেখানে পৌঁছনো অনেকের পক্ষেই কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ‘ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার’ বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্রে শুনানি পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ আরও সহজ হবে।




