Desher Samay
প্রচ্ছদকলকাতাজেলাপশ্চিমবঙ্গখেলাউত্তরবঙ্গদেশবাংলাদেশআন্তর্জাতিকই-পেপারফটো গ্যালারিসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউব
Breaking News

সিপিএম রাজ্য কমিটিতে জায়গা পেলেন দলের একমাত্র বিধায়ক

deshersamay

Share article:

ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপর্যয়ের মধ্যেও দলের জন্য একক লড়াইয়ে ‘একা কুম্ভ’ হয়ে বিধানসভার অন্দরে বামপন্থীদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের নবনির্বাচিত বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা। আর ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পক্ষ থেকে এক বড়সড় পুরস্কার দেওয়া হল তাঁকে। সিপিআই(এম) বা সিপিএমের রাজ্য কমিটির (CPIM State Committee)
আমন্ত্রিত সদস্য (Invited Member) করা হয়েছে রাজ্যের একমাত্র এই বাম বিধায়ককে।

মঙ্গলবার থেকেই কলকাতায় শুরু হয়েছে দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূলত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবি এবং সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা চলছে।

আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, বৈঠকের প্রথম দিনেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে নিজ নিজ জেলার নির্বাচনী ফলাফল ও ভোটপ্রাপ্তির খতিয়ান নিয়ে আলাদা আলাদা করে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা রিপোর্ট বা ‘রিভিউ রিপোর্ট’ জমা দেওয়া হয়। সেই সমস্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই দলের রাজ্য নেতৃত্ব মুস্তাফিজুর রহমান রানাকে এই বড় সম্মান দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অন্যদিকে, সাংগঠনিক রদবদলের অংশ হিসেবে এদিন সিপিএমের রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদিকা মোনালিসা সিনহাকেও।

পার্টি সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রত্যেকটি জেলা কমিটি যে নির্বাচনী খতিয়ান বা রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতে বিপর্যয়ের আসল কারণ ও ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলির ব্যাখ্যার পাশাপাশি এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও রূপোলী রেখার উল্লেখ করা হয়েছে। জেলাগুলির দাবি, বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে নজিরবিহীন ভাঙন, ডামাডোল এবং ক্ষমতার অলিন্দে ক্ষমতার কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে, তার সরাসরি সুফল পেতে শুরু করেছে বামেরা।

তৃণমূলের এই চরম বিশৃঙ্খলার ফলে নীচুতলার সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং বিশেষ করে রাজ্যের সংখ্যালঘুপ্রধান এলাকাগুলির আমজনতার মনে বামেদের প্রতি একটা বড়সড় আগ্রহ ও জনসমর্থন লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অধিকাংশ জেলা কমিটিই আশাবাদী যে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের রাজনৈতিক সুবিধা আগামী দিনে পার্টি গ্রাম ও শহরের বুথ স্তরে পুরোদমে পাবে। আর এই উত্তাল রাজনৈতিক আবহেই ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানকে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কমিটি অর্থাৎ রাজ্য কমিটিতে নিয়ে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘুপ্রধান জেলা থেকে জিতে আসা এবং খোদ বিধানসভার অন্দরে দলের একমাত্র কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা মুস্তাফিজুর রহমান রানাকে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে পার্টির বড়সড় রাজনৈতিক প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

বিশেষ করে বাংলার যে সমস্ত জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু মানুষের আধিক্য বেশি, সেই সমস্ত এলাকায় তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে রানাকে ফ্রন্টলাইনে রেখে বা ‘পোস্টার বয়’ করে জনসংযোগ বাড়ানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে সিপিএম নেতৃত্ব। মনে করা হচ্ছে, আগামী দিনে এ রাজ্যে কমিউনিস্ট পার্টির মূল নীতি নির্ধারণ এবং রণকৌশল তৈরিতেও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রথম সারির ভূমিকায় দেখা যাবে রাজ্যের একমাত্র এই বাম বিধায়ককে।

Advertisement
Tags: News

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Search Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.