শত চেষ্টাতেও হল না রক্ষা, অবশেষে ভবানীভবনে অভিষেক, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে CID!বাইরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি
deshersamay


হাইকোর্ট থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ মিললেও হাজিরা দিতেই হচ্ছে। ডেডলাই ছিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন বিকেল সাড়ে চারটের কিছু সময় আগে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি চলে যান ভবানীভবনে। বিমানবন্দর থেকে প্রথম সরাসরি চলে যান উল্টোডাঙার দিকে। সেখান থেকেই মা ফ্লাইওভার থেকে ডিএল খান রোড ধরে হরিশ মুখার্জি রোডে চলে যায় তাঁর কনভয়। পটুয়াপাড়ার রাস্তা ধরে কালীঘাটে তাঁর বাড়িতে চলে যান অভিষেক। বাড়িতে মিনিট ১৫ ছিলেন অভিষেক। সেখান থেকেই চলে যান ভবানীভবনে। ৫টা বেজে ৪৮ মিনিটে সিআইডি দফতরে আসেন তিনি। এখন দেখার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন কী সূত্র পান তদন্তকারী।

সূত্রের খবর, এদিনই সই জালিয়াতি মামলায় ভবানীভনে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। তাঁকে কার্যত নিজের হাতেই সিআইডি-র প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে হবে। অর্থাৎ, তদন্তকারীরা প্রশ্ন লিখে দিতে হবে। তারপর অভিষেককে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে হবে। শেষে সই করতে হবে। পরবর্তীতে যাতে তিনি নিজে চাপ দেওয়া, ভয় দেখিয়ে লিখে নেওয়ার মতো কোনও অভিযোগ করতে না পারেন তার জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ সিআইডি যে এ ক্ষেত্রে একেবারে নতুন কৌশল নিচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে দিনভর ভবানীভবনেও চূড়ান্ত ব্যস্ততার ছবি দেখা গিয়েছে ভবানীভবনেও। মেইন গেটেও কড়া নিরাপত্তা। ভিতর থেকে গেট বন্ধ, নজরদারির জন্য মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মোতায়েন করা হয়েছে RAF. দুই দিকেই চলছে কড়া পাহাড়া। রয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশাল টিম। বাকি গেটগুলিতেও কড়া পুলিশি পাহাড়া রয়েছে। সব গেটেরই নিরাপত্তা রীতিমতো বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনওরকম জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। এর আগে তিনি একাধিক বার হাজিরা এড়িয়েছেন। এক বার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চেয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পরের বার রাজনৈতিক কারণে তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। এর মধ্যেই সিআইডি গ্রেফতার করতে পারে ভেবে অভিষেক কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আবেদন জানিয়েছিলেন রক্ষাকবচের।

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। আদালত তাঁকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে বলেছিল। বলা হয়েছে, অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে সিআইডি এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। দু’সপ্তাহ পরে এই মামলার আবার শুনানি হবে। তত দিন পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না অভিষেকের বিরুদ্ধে।

শুনানির আগে অভিষেকের এই মামলা থেকে সরে যান তাঁর আইনজীবী তথা দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যের’ বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। মমতাকে তাঁর এবং অভিষেকের মধ্যে থেকে যে কোনও এক জনকে বেছে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মমতা কী করবেন, অভিষেক নিজে কী করবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশের পর অভিষেকের হাজিরা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সিআইডি-র তরফেও তাই নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভবানী ভবনের। বাড়তি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, র্যাফ মোতায়েন করা হয় সেখানে। এ ছাড়া, রাখা হয়েছিল কাঁদানে গ্যাসও। অভিষেক পৌঁছোলে সেখানে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করতেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করেছে সিআইডি।
বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি।

নোটিসও ধরানো হয় অভিষেককে। কিন্তু তিনি এক বারও হাজিরা দেননি। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর অভিষেককে দেখে কেউ কেউ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন। অভিষেক নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ইতিমধ্যে সইকাণ্ডের তদন্ত করতে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি।
