পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন , ৫৩৮টা ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস , রেলমন্ত্রীর পাশে বসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
deshersamay


ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাঁধে চড়ে আরও দুরন্ত গতিতে ছুটবে রেল। শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল পদ্ম শিবির। সরকার বদলের এক মাসের মধ্যেই নবান্নে হয়ে গেল রেলমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গ পাচ্ছে বুলেট ট্রেন। হাইপ্রোফাইল বৈঠকে হাজির বিধায়করাও। জমি হস্তান্তর, প্রশাসনিক ছাড়পত্র নিয়ে আলোচনার খবর মিলছে। থমকে থাকা ৬২ প্রকল্পে গ্রিন সিগন্যাল।

রাজ্যে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করেন তাঁরা।
বৈঠকে হাজির তৃণমূলের অনেক বিধায়কই। অন্যদিকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে অটো চড়ে নানা প্রান্তে যেতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে। বিধায়ক-সাংসদের সঙ্গেই একাধিক প্রকল্পের সাইট ভিজিটও করেন বলে জানা যায়।

এদিন আবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চিংড়িহাটায় মেট্রো প্রকল্পের সাইট ভিজিটেরও কথা রয়েছে রেলমন্ত্রীর। সাংবাদিক বৈঠকে শুরুতেই একাধিক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে লাল ফিঁতের ফাঁসে আটকে থাকার জন্য আগের তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর সাফ কথা, “আগের সরকারের সঙ্গে তো বাংলার সরকারের একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাবছিল বারবার। ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন আগের সরকারের জন্য।
রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১০২ টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন হবে। ৫৩৮টা ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস হবে। ১ লাখ কোটি টাকার বেশি কাজ হবে। পশ্চিমবঙ্গ ৪৩৮০ কোটি টাকা পেয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৪২০৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বলব ডবল ইঞ্জিন সরকার ৪০ টার বেশি এনওসি রেলওয়েকে দেওয়া হয়েছে।”

এরপরই আগের সরকারের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, “আমাদের কাছে বড় সুযোগ ছিল। আগের সরকার রেল মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেনি। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। রেলমন্ত্রী সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন, রেল বোর্ড চিফ সেক্রেটারিকে চিঠি করেছিলেন। কিন্তু ওরা সহযোগিতা করেনি।”
রেলমন্ত্রীর ঘোষণা
৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস হবে
পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন হবে
কলকাতা মেট্রো ৫ বছরের মধ্যে ৬০টি নতুন ট্রেন বা রেক পাবে ।
শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি বুলেট ট্রেন চালু করা হবে, ৬ ঘণ্টায় পৌঁছনো যাবে ।
ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর। ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত এই করিডরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ করা হবে ।
‘আপনারা এবার হাত খুলে কাজ করতে পারবেন’
বাংলার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে একের পর এক রেল প্রজেক্টের কাজ আটকাতে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গেছে। তবে আপনারা এবার হাত খুলে, মন খুলে কাজ করতে পারবেন। আগের সরকার আপনাদের কাজ করতে দেয়নি ।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিশানা করেন রাজ্যের পূর্ববর্তী সরকারকে। বলেন, আগের সরকার শুধু কোর্টে যেত প্রকল্পের কাজ আটকাতে। কিন্তু এখন থেকে সেটা আর হবে না, এর জন্য বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ।
রাজ্যের একাধিক এলাকা রেল মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে যাবে। ভারতীয় রেলকে পুরো বাংলায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য জমি দেওয়া হবে। রেলের কাজে কখনও বঞ্চনা করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু রাজ্যের পূর্ববর্তী সরকারের জন্য কমপক্ষে ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। এবার থেকে তা হবে না। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে রেলপ্রকল্প হবে ।
১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ হবে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, টাকা রেডি করা আছে। পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন হবে। ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক কার্যত যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাবে পরিণত হয়েছিল। বহু প্রকল্প আটকে ছিল সেই কারণে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পুরোদমে পাবেন। ইতিমধ্যে ৬১টি রেল প্রকল্পে অনুমোদন মিলেছে এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

