‘প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে’,বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিল কারখানায় ১০০০ কোটির লগ্নি , শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
deshersamay

রাজ্যে নতুন সরকারের মেয়াদ মাত্র ২ মাস। এর মাঝেই শিল্পায়নের পথে আরও এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। ডানকুনির পর লাক্স কোজির পর এবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঞ্চে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরিও।

মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ১৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্বোধনে শুক্রবার বাঁকুড়ায় গিয়ে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। তিনি বিঁধেছেন বিগত তৃণমূল সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। তারা কিছুই করে যায়নি শিল্পের জন্য। সে কথা বলতে গিয়েই কটাক্ষ করে তাপস বলেন, ‘আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী!’

বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার জমি সব বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। সেখানেই মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আগেই হয়েছে। এখন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন। কোম্পানি সূত্রে খবর, কোম্পানির ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে।
এই প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি। প্রচুর মানুষের কাজ হবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে, এখানকার উন্নয়ন হবে না। অনুসারী শিল্পের প্রসারও ঘটবে না। এখানকার প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন কাজের জন্য। তারাও ফিরে আসবেন না। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা বাংলার পক্ষে ভালো উদ্যোগ।’

শিল্পমন্ত্রী তাপস বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে অবহেলা করেছে। বর্তমান সরকার শিল্প আনতে চায়। এই সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নয়। বাংলার যে শিল্পায়নের কথা বলছি আমরা, তার তো পার্টনার শিল্পপতিরা। এত দিন যে বিজ়নেস সামিট হয়েছে, সে সব বোগাস। ও সব ঢক্কানিনাদ। আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন এই কারখাানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিক অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলার শিল্প ও আর্থ-সামাজিক দিকটিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

শ্যাম স্টিলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ বাংলা গড়ার ডাক দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, “কাজের খোঁজে বাংলা ছেড়ে যেতে হবে কেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য আমরা কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে লড়াই করে যাব। আমরা পরিশ্রম করব বাংলার মানুষর জন্য, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর জন্য। বাংলার গ্যাপ ফিলিংয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে। আগামী ৫ বছরে যে কাজ করে দেখাব, বাংলার মানুষ তা অনুভব করবে। মোট ১৫ হাজার কোটির বিনিয়োগ। ১০ হাজার বিনিয়োগ এমএসএমই-তে। মোট ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে এই শিল্পকে কেন্দ্র করে। আমাদের শিল্পসমৃদ্ধ বাংলা গড়তে হবে। ভারতের মধ্যে বাংলাই শ্রেষ্ঠ হবে। তা দেখাতে হবে আমাদের।”

