ফের বনগাঁয় সড়ক দূর্ঘটনা !যশোররোড সম্প্রসারণ ও বিপজ্জনক গাছ দ্রুত কাটার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের দেখুন ভিডিও
deshersamay



বনগাঁ :যশোর রোডের শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে এই গাছগুলোর বহু মরা ও দুর্বল ডালপালা ভেঙে এবং গাছ উপড়ে পড়ে প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে । প্রশাসন বেশ কিছু বিপজ্জনক গাছ চিহ্নিত করে অপসারণের উদ্যোগও নিয়েছে বহু দিন আগেই ।

সম্প্রতি খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বনগাঁয় যশোর রোডের ধারে থাকা মৃত গাছ পরিদর্শন করে সেই সমস্ত বিপজ্জনক গাছ ও গাছের মরা ডাল কাটা এবং রাস্তা সম্প্রসারণের শুরু কথা বলেন।

সোমবার সকালেই ফের বনগাঁয় হরিদাসপুর এলাকায় যশোর রোডে গাড়ি দূর্ঘটনায় ছয় ঘরিয়া ঠাকুরহরিদাস বালিকা বিদ্যালয়ের স্কুল চার জন স্কুল ছাত্রী গুরুতর ভাবে আহত হন। তাঁদেরকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার তত্ত্বাবধানে । এই ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় । দেখুন ভিডিও
https://youtu.be/DzQrYltgQrM?si=8WKuziohdaE5q3Ev
বনগাঁ শহরে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়কের পাশে বিপজ্জনকভাবে রয়েছে একাধিক শতাব্দী প্রাচীন গাছ। অতীতে গাছগুলির মরা, শুকনো ডাল ভেঙে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে বেশ কয়েকজনের। তাই এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করেছে প্রশাসন। পুর সভা সূত্রে জানা যাচ্ছে বর্ষা শুরুর আগেই এই বিপদজনক গাছ কাটার কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যশোর রোডের দু’পাশে থাকা শতাব্দী প্রাচীন একাধিক গাছ কাটা নিয়ে অতীতে প্রশাসনের সঙ্গে বৃক্ষপ্রেমীদের আইনি লড়াই হয়েছে। প্রথম থেকেই বৃক্ষপ্রেমীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন যে, মরা গাছ কাটা হোক। তবে তাঁদের আবেদন, মরা গাছের আড়ালে যেন জীবিত গাছ কাটা না হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ,বারাসত ছেড়ে যশোর রোড বরাবর বনগাঁর দিকে এগিয়ে গেলেই রাস্তার ধারে মোটা মোটা গাছ। বহু পুরনো গাছ। আর সেই গাছগুলির জন্য যশোর রোডের সম্প্রসারণের কাজে সমস্যা হচ্ছিল। এবার যশোর রোডের ধারের ৩৫৬টি শিরিষ গাছ কাটার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে খুশি গাড়ি চালক থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার যশোর রোডের ধারে বসবাসকারী মানুষজন।

উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল থেকে বারাসত পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে থাকা শিরিষ গাছের জন্যে ১১২ নম্বার জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ থমকে ছিল। এই গাছ কাটার বিরোধিতা করে পথে নেমেছিলেন পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের কর্মীরা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সম্প্রসারণের কাজ আটকে ছিল।
২০১৮ সালে ৫ টি ব্রিজের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ৩৫৬ টি গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে পরে আবার পথে নেমে আন্দোলন শুরু করে পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের কর্মীরা। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। গত ২০২৫ এর ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে বহাল রেখে ৩৫৬ টি গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে সেই সময়ের মধ্যে ঝড়ে বেশ কয়েকটি গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ৩০৬ টি গাছ কাটতে হবে এবং নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি গাছ কাটার পরিবর্তে পাঁচটি করে নতুন গাছ লাগাতে হবে ।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের থেকে গাছ কাটার নির্দেশের খবর চাউর হওয়ার পর খুশি গাড়ি চালক থেকে স্থানীয় দোকানদার সকলেই।
প্রকৃতি প্রেমীদের কথায় ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে আমরা মান্যতা দিচ্ছি। একটি গাছের পরিবর্তে পাঁচটি গাছ হয়ত লাগানো যাবে। কিন্তু ওই গাছে অনেক পাখি অনেক প্রাণী আছে, তারা তো বাসস্থান হারাবে।’

সম্প্রতি খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বনগাঁয় যশোর রোডের ধারে থাকা মৃত গাছ পরিদর্শন করে সেই সমস্ত বিপদজনক গাছ ও গাছের মরা ডাল খুব শিঘ্রই কাটা শুরু হবে বলে জানান । তিনি আরও বলেন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজও করা হবে ।

Leave a Reply