জাকির হোসেন, ঢাকা:

বাংলাদেশের এমপি আনোয়ারুল আজিমকে খুনের ঘটনায় নেপাল থেকে অভিযুক্ত সিয়াম হোসেনকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান এই তথ্য প্রকাশ্যে আনার পরে রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়।

বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আখতারুজ্জামান শাহীনের সহযোগী সিয়ামকে গ্রেফতার করল নেপাল পুলিশ৷ তার গ্রেফতারির কথা আগেই স্বীকার করেছিল ঢাকার গোয়েন্দা বিভাগ৷ আটক সিয়ামকে হেফাজতে নিয়েছে কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশ (সিআইডি)।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কলকাতায় সিআইডি এই খুনের মামলার তদন্ত করছে। তাদের হেফাজতে দুজন অভিযুক্ত রয়েছে। একজনকে তারা নেপাল থেকে নিয়ে এসেছে। আরেকজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’ তবে নেপাল থেকে সিআইডি কাকে গ্রেপ্তার করেছে, তার নাম জানাননি কমিশনার। শুক্রবার রাতে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের ভোলার বাসিন্দা সিয়ামকে এমপি খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কলকাতা সিআইডি সূত্রে খবর, আত্মগোপনে থাকা সিয়ামকে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে আজ শনিবার (৮ জুন) তাকে কলকাতায় আনা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর পক্ষ হতে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছিল, নেপাল পুলিশ গ্রেফতার সিয়ামকে শুক্রবার ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। সিআইডির কর্মকর্তারা সেখানেই সিয়ামকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত যেখানে ঘটনা সংঘটিত হয়, সেখানে তদন্ত হয়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের আইনে আছে, বিদেশে যদি কোনও বাংলাদেশি অপরাধ করে থাকে সেই অপরাধীকে বাংলাদেশে এনেও বিচার করার বিধান রয়েছে।” এ ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তদন্ত করছে, বাংলাদেশ পুলিশও তদন্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদন্তের বিষয়ে দুই দেশ একত্রে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।”

এদিকে কলকাতা সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, সিয়াম নেপালে আত্মগোপন করে আছে, কলকাতা সিআইডি ও বাংলাদেশ পুলিশ এ খবর আগেই পেয়েছিল। এরপরই তদন্তের জাল বিস্তার করা হয়। সিয়ামকে কলকাতায় আনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কলকাতায় বাংলাদেশি সাংসদ আনোয়ারুল হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাবচালক জুবেইর ওরফে জিহাদ হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ, যে ‘কসাই জিহাদ’ নামেও পরিচিত। সে এখন জেল হেফাজতে রয়েছে। এর আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেশ কিছু সূত্র পাওয়া যায়। সিআইডি জানতে পারে, এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিন কলকাতা থেকে নেপাল হয়ে আমেরিকায় পালিয়ে গেছে। আর তার সহযোগী সিয়াম নেপালেই আত্মগোপন করে আছে। পরে নেপালে যায় কলকাতা সিআইডির একটি টিম। একই ঘটনায় বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিমও সেখানে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে বাংলাদেশের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় আসার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান আনোয়ারুল আজিম আনার। এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুন হবার খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনোয়ারুলকে খুন করা হয়। খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর স্যুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়। এদিকে, আনোয়ারুলের দেহ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তার দেহ খুঁজতে ভারতীয় নৌবাহিনীরও সাহায্য নেওয়া হয়েছে৷ ভাঙরের বাগজোলা খালে আনোয়ারুলের টুকরো করা দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকদের৷ সেই কারণে ওই খালে একাধিকবার তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছেন রাজ্যের গোয়েন্দারা৷

আনোয়ারুলকে হত্যার পর মরদেহ সরিয়ে ফেলার কাজে অংশ নেওয়া মুম্বাই থেকে ভাড়া করে আনা কসাই জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। জিহাদ কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আর বাংলাদেশের ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া। এই তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এদিকে আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটক হওয়া কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহিন এবং হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়ার আত্মীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here