Desher Samay
প্রচ্ছদলেটেস্ট নিউজদেশপশ্চিমবঙ্গকলকাতাউত্তরবঙ্গজেলাব্যবসাবিনোদনখেলাআন্তর্জাতিকবাংলাদেশফটো গ্যালারিভ্রমণকাহিনীসম্পাদকের পছন্দসরাসরিইউটিউবই-পেপার
Breaking News

‘মমতার কথাও শোনে না! শিবির বদলেই এবি-কে তুলোধনা মদনের , অভিষেকের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল: অনুব্রত

deshersamay

Share article:

বুধবার দুপুরে আচমকাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক। আর শিবির বদলের পরই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন তিনি।

পাশাপাশি অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অনুব্রত মণ্ডলের। এর আগে গোরু পাচার মামলায় জেলে গিয়েছিলেন অনুব্রত। এতদিন পরে সেই জেলযাত্রার পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন তিনি। অভিষেকের জন্য তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে এখন ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। ঋতব্রত শিবিরের বীরভূম জেলা সভাপতি তিনি।

তৃণমূলে যা যা সমস্যা রয়েছে তার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। এখন যা অবস্থা তাতে, কেউ আর মমতা-শিবিরে থাকবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
বুঝবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। এ দিনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর শিবিরের সঙ্গে দেখা করেছেন অনুব্রত মণ্ডল, মদন মিত্ররা।

বিধানসভা চত্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্রের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও শোনেন না। তাঁর দাবি, অভিষেক এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে তাঁর কথাই শেষ কথা বলে ধরে নেওয়া হত। মদনের কথায়, অভিষেকের নেতৃত্বের ধরন দলের ভিতরে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি এও বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, দলের অনেকেই অস্বস্তিতে থাকতেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মদনের মন্তব্য, তদন্তকারী সংস্থা ইডির চেয়েও তিনি বেশি ভয় পেতেন ‘এবি’-কে। তাঁর ভাষায়, তদন্তকারী সংস্থা অন্তত জিজ্ঞাসাবাদ করে, কিন্তু ‘এবি’ কখন, কোথায় এবং কীভাবে কাউকে সরিয়ে দেবেন, তা বোঝা যেত না।

নিজের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগও এদিন খারিজ করে দেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, টাকা বা গয়না নিয়ে কাউকে চাকরি দিয়েছেন – এমন অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যেই গণভোটের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেন, মানুষের সমর্থনই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অভিষেককে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা সম্ভব নয়। মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল সফল হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মদনের দাবি, শুধু কড়া ভাষণ, অঙ্গভঙ্গির রাজনীতি দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। মানুষের কাছে পৌঁছতে হয়, তাঁদের কথা শুনতে হয় এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করতে হয়। সেই জায়গাতেই ঘাটতি ছিল বলে তাঁর অভিযোগ। দলীয় কৌশল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরোক্ষে দলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থাকেও কটাক্ষ করেন। তাঁর মন্তব্য, ওই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে দলের অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি ছিল এবং সেই কৌশল কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।

সবশেষে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, একসময় যে দল ২১৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সেই শক্তিশালী অবস্থান হারিয়ে ফেলেছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবু তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।

মদন মিত্রের এই দলবদল এবং যোগ দেওয়ার পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

এ দিনই বিকেলে ফেসবুক লাইভে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বেইমানদের জন্য করজোড়ে ক্ষমা চাইছি।’ তাঁর দাবি, ‘তিনি সেটিং করলে এই অত্যাচার তাঁকে সহ্য করতে হতো না।’

Advertisement

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলি আবশ্যক *

Home Language Gallery e-Paper
Menu
© 2026 Desher Samay.

Select Language

ভাষা নির্বাচন করুন