
মনে পড়ে গত বছর কী হয়েছি উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে ? এক পক্ষে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, আর এক পক্ষে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভেঙে দু ভাগ হয়ে গিয়েছিল ঠাকুরবাড়ি।
তবে এবার সেই ছবি বদলেছে। একযোগে মেলা পরিচালনা করছেন শান্তনু ও মমতাবালা। এরইমধ্যে দেখা গেল কার্যত এক নজিরবিহীন ছবি। মমতাবালার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করছেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। দেখুন ভিডিও
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিখ্যাত বারুণী মেলা। পূণ্যস্নান করবেন মতুয়ারা। তার আগে আজ, বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। এদিন দেখা গেল ঠাকুরবাড়ির ভিতরে ঢুকে মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। সোজা তাঁর পায়ে মাথা ঠেকিয়ে করলেন প্রণাম। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে এমন ছবি কার্যত নজিরবিহীন।
সেখানেই অসীম সরকার বলেন, “ভক্তরা এটাই চেয়েছিল। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় পড়ে থাকুক। মতুয়া পরিবার চায় আমরা সবাই একত্রিত হই। পিছনের কথা ভুলে সবাই ভুলে যান।”
মমতাবালা বলেন, “সংসার থাকলে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা জগতের নিয়ম। হরিচাঁদের দর্শণ হল নারী-পুরুষ পাবে সমান অধিকার। তাই নারীশক্তির জয় হবেই।”
এদিন ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রাজ্যের , প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক , মন্ত্রী সুজিত বসু প্রমুখ। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে আমরা এখানে এসেছি । ঠাকুরকে ভাগ করা যায় না । ধর্ম আর রাজনীতি দুটো আলাদা বিষয়। সকলে মিলে একসঙ্গে মেলা হচ্ছে। এটা মানুষের আবেগের মেলা। সামিল হতে পেরে আমিও খুশি।”
মতুয়াদের আবেগের বারুণী মেলা। প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন মাঠে শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই শুরু হবে এবছরের পুণ্যস্নান। মেলা চলবে সাতদিন ধরে। এবছর মমতাবালা ও শান্তনু ঠাকুরের যৌথ উদ্য়োগে আয়োজন করা হয়েছে মেলার। বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। এদিনই ঠাকুরবাড়ি যান বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। তৃণমূল সাংসদ তথা ঠাকুর পরিবারের সদস্য মমতাবালা ঠাকুরের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন অসীম সরকার। মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন মমতাবালা। ছাব্বিশের আগে এই সৌজন্য বিনিময়ের নেপথ্যে রাজনীতি বলেই অনুমান অনেকের। তবে কি এবার তৃণমূলের পথে কবিয়াল? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।