দেশের সময় সিএএ, এনআরসি বাতিল করতে হবে। দলের নবনির্বাচিত সাংসদদের নিয়ে বৈঠকের পর শনিবার এমনটাই হুমকি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সমস্ত রাজ্যের বকেয়া টাকা দ্রুত মেটাতে হবে। দলের সাংসদদের মমতার স্পষ্ট বার্তা, সংসদে গিয়ে বসে থাকলে চলবে না। বাড়াতে হবে আক্রমণের ঝাঁঝ।

সরব হতে হবে বাংলার প্রতি বঞ্চনা, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা নিয়ে। মমতার তোপ, সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও বেআইনিভাবে সরকার গড়ার চেষ্টা চলছে। দেশের মানুষ তাদের রায়দানের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা মোদীকে চান না। ফলে যে সরকার গড়ার চেষ্টা হচ্ছে, তা সফল হবে না। শীঘ্রই ভেঙে পড়বে এই নড়বড়ে সরকার। মোদীর উচিত ছিল, দেশের মানুষ যে রায় দিয়েছে তা মেনে নিয়ে নিজে থেকে সরে যাওয়া। আত্মপ্রত্যয়ী মমতার ঘোষণা, আমরা লক্ষ্য রাখছি পরিস্থিতির উপর। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। দেশে সরকার গড়বে ইন্ডিয়া জোটই।

মমতা বলেন, মনে রাখবেন এনডিএ জোটে যারা আছে, তাদের অনেক বেশি কিছু চায়। কিন্তু যারা ইন্ডিয়া জোটে আছে, তাদের কিছু দরকার নেই। আমরা শুধু মানুষের ভালো চাই। দেশে পরিবর্তন দরকার। আমরা অপেক্ষা করছি। ওরা আগে শরিকদের সামলাক। কাকে কী দেবে ঠিক করুক। দেখুক সন্তুষ্ট করতে পারে কিনা। মোদীকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রীর আক্রমণ, অন্যের দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন না, তাহলে দেখবেন নিজেদের দলই ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমাদের কিছু করার দরকার হবে না। আপনাদের নিজেদের লোকেরাই তার জন্য যথেষ্ট।

মমতার তোপ, একনায়কতন্ত্রেরও একটা সীমা আছে। কিন্তু উনি সেই সীমাও অতিক্রম করে ফেলেছিলেন। কোনও বিল পাস করানোর আগে কারো সাথে আলোচনা করেননি। যা মনে হয়েছে তাই করেছেন। কিন্তু এবার আর তা হবে না। বিল পাস করানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। আমরা আমাদের দলের এমপিদের বলে দিয়েছি, সংসদের অন্দরে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরো বাড়াতে হবে। মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার কোন প্রশ্নই নেই জানিয়ে এদিন মমতা ।

কালীঘাটের বাড়িতে দাঁড়িয়ে বলেন, কাল দেশের মানুষকে শুভকামনা জানাব। মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়নি বলে তাদের অভিনন্দন জানাব। ইন্ডিয়া জোটকে অটুট রাখতে মমতার বার্তা, আমি এখনই দিল্লি যাচ্ছি না। কিন্তু ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের কলকাতায় স্বাগত। তাঁরা যদি কলকাতায় কোন সমাবেশও করতে চান, আমি স্বাগত জানাচ্ছি।

এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা থাকছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে দলের মুখ্য সচেতক পদে রাখা হচ্ছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। ডেপুটি লিডার হচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের নেতাকর্মীদের মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল যে সমস্ত কেন্দ্রে এগিয়ে আছে, সেখানে বাড়তি আত্মসন্তুষ্টির কোনও জায়গা নেই। পাশাপাশি যে সমস্ত জায়গায় ভোটের অংকে তৃণমূল পিছিয়ে আছে, সেখানে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। মহিলা সাংসদদের বিশেষভাবে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, মনে রাখতে হবে মহিলারা উজাড় করে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। ফলে তাদের জন্য আরও বেশি করে কাজ করতে হবে।

ইউসুফ পাঠানকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন মমতা। ইউসুফকে জায়ান্ট কিলার বলে সম্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী তথ্য তুলে ধরে দাবি করেন, কোন কোন মিডিয়া ভুল প্রচার করছে। আসল সত্যিটা হল এবারের লোকসভা নির্বাচনে নিরিখে আমরা রাজ্যের ১৯২টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছি।

সেখানে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৯০ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি এ রাজ্যে ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়েছিল। সেসময় তৃণমূল এগিয়ে এগিয়েছিল ১৬১টি আসনে। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ২৯টি আসনে নয়, প্রকৃতপক্ষে আমরা জয়লাভ করেছি ৩৫টি আসনে। চার থেকে পাঁচটি আসনে আমাদের চক্রান্ত করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই চক্রান্তে মদত জুগিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন। ডি এম, এস পি, আই সি বদল করে তৃণমূলকে হারানোর পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই গিয়ে হরিয়ানার কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here