হীয়া রায়, বর্ধমান

শুক্রবার বর্ধমানের জনসভা থেকে বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলায় হিন্দুরা কী পরিস্থিতিতে রয়েছে সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ”মনে হচ্ছে বাংলায় তৃণমূল সরকার হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রেখে দিয়েছে!” 

ভোট প্রচারে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে।

সোশ্যাল মিডিয়ার তাঁর এক বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ৩০ শতাংশ লোক মসজিদ ভাঙলে মুর্শিদাবাদ জেলার ৭০ শতাংশ লোক বসে থাকবে না! বিধায়কের সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনেই এদিন মোদী বলেন, ”বাংলায় কী হচ্ছে? দেখে মনে হচ্ছে, হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রেখেছে তৃণমূল।” পাশাপাশি জয় শ্রী রাম স্লোগানের বিরোধিতার ইস্যু নিয়েও সুর চড়ান মোদী। 

সিপিএম, কংগ্রেসকেও তুলোধনা করতে ছাড়েননি নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করার উদ্দেশ্য নিয়েছে তাঁরা। ইন্ডি জোটের কোনও এক নেতা ভোট-জিহাদের কথা বলেছেন। কিন্তু বাকি সব দল তাতে চুপ আছে। এর থেকেই বোঝা যায়, এই জোট ক্ষমতায় এলে তাঁরা ভোটব্যাঙ্কের জন্য যা খুশি তাই করতে পারে, দাবি মোদীর।

বিরোধীদের তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ”তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস দিনরাত মোদীকে আক্রমণ করে চলেছে। বলছে মোদীকে গুলি করে দাও। কিন্তু, আমি ভয় পাই না। যাঁরা ভয় পায় তাঁদের দলে থাকি না।” তাঁকে যত আক্রমণ করা হবে, তত বিজেপির ভোট বাড়বে বলে দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী।  

রাজ্যের শাসক দলের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ”বাংলায় এমন লোক আছে যারা জয় শ্রী রামের স্লোগানে রেগে যায়! ওদের যেন জ্বর চলে আসে। অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে এদের আপত্তি, রামনবমীর মিছিল নিয়েও এদের আপত্তি।” সন্দেশখালির ইস্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে আরও বড় মন্তব্য করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রশ্ন, ”সন্দেশখালির ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে সরকার। তাঁর নাম শেখ শাহজাহান ছিল বলে?” মোদীর কথায়, ভোটব্যাঙ্কের জন্য তোষণের রাজনীতি করছে তৃণমূল। 

প্রথম, দ্বিতীয় দফা শেষ। এবার পালা তৃতীয় দফার। তাঁর আগে ফের বঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ বর্ধমান সাই কমপ্লেক্স মাঠে করলেন সভা। আওয়াজ তুললেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, অসীম সরকারের হয়ে। এদিনই আবার তাঁর সভা করার কথা রয়েছে নদিয়া, বীরভূমেও। এদিকে বাংলায় পা রেখেই ফুঁসে উঠলেন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে। চাকরিহারাদের মধ্যে যোগ্য চাকরিহারাদের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিলেন। বঙ্গ বিজেপি যে তাঁদের পাশে সবসময় রয়েছে সেই কথা বললেন বারবার। দফায় দফায় সুর চড়ালেন ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে। 

এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দেগে মোদী বলেন, শিক্ষক নিয়োগে তৃণমূলের তোলাবাজেরা লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীদের ধোঁকা দিয়েছে। কেমন দুর্নীতি হয়েছে তা তো নোটের বান্ডিল দেখেই বোঝা গিয়েছে। এত দুর্নীতি করেছে যে নোট গোনার মেশিনও ক্লান্ত হয়েছে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের জনতা চিনে গিয়েছে। 

মোদীর দাবি, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে তার খেসারত দিতে হচ্ছে অনেক যোগ্য চাকরি প্রার্থীকেও। বর্তমানে কার্যত দিশেহারা অবস্থা তাঁদের। কিছু দুর্নীতিবাজ অযোগ্যদের জন্য আজ তাঁরা সব খুইয়েছেন। তাঁদের পাশে থাকবে বিজেপি। খোলা হবে লিগ্য়াল সেল, তৈরি হবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এদিন বর্ধমান থেকে মোদী বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থী মুশকিলে পড়েছে। আমি বাংলার বিজেপির সভাপতিকে বলেছি ওই সমস্ত যোগ্যদের কীভাবে সাহায্য করা যায় দেখতে।

একটা লিগ্যাল সেল ও একটা সোশ্য়াল মিডিয়া প্লাটফর্ম তৈরি করতে বলেছি।” খানিক প্রতিশ্রুতির সুরে বলেন, যাঁদের কাছে যোগ্য প্রার্থী হওয়ার সঠিক কাগজ রয়েছে তাঁদের পাশে থাকবে বঙ্গ বিজেপি। দেওয়া হবে আইনি সহায়তা। তাঁরা যাতে সুবিচার পায় তা দেখা হবে। যোগ্য চাকরিপ্রাপকদের জন্য সর্বতভাবে কাজ করবে বিজেপি। এটা মোদীর গ্যারান্টি।”

এরপরই কার্যত হুঙ্কারের সুরে মোদী বলেন, তৃণমূলের তোলাবাজি চলতে দেব না। এটা মোদীর গ্যারান্টি। সমস্ত লুঠ, সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবেই।” এরপরই দিলীপ-অসীমদের সমর্থনে বলেন, “বাংলার বিকাশের জন্য সব বুথে বিজেপিকে জেতাতে হবে। অসীম সরকার, দিলীপ ঘোষকে জেতাতে হবে। ওনারা যে ভোট পাবেন তাতে মোদীর শক্তি বাড়বে। প্রতিটা ভোট মোদীর খাতায় যাবে।”  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here