রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সোমবার রাতের সোনামুখীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার নবান্নে বৈঠকে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি।
খোদ শাসকদলের নেতা শেখ সায়নের খুনে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “এত খুন হচ্ছে কী করে? থানা কী করছে? পুলিশ কেন আগে থেকে কিছু জানতে পারছে না?”
বাঁকুড়ার সোনামুখীর সেকেন্দার খাঁ, কোচবিহারে সঞ্জীব রায়, কোন্নগরের পিন্টু চক্রবর্তী, গত দুই মাসের মধ্যে রাজ্যে একাধিক তৃণমূল নেতা এবং শাসক দল ঘনিষ্ঠের খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল। রাজ্যে ঘটে যাওয়া এই একের পর এক খুনের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং কমিশনারেটগুলির কমিশনার (সিপি)-দের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ভার পুরোটা থানার আইসি-ওসিদের উপরে ছেড়ে দিলে চলবে না। নিজেদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। এ দিন ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্প নিয়ে জেলাশাসক, এসপি, পুলিশ কমিশনারদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। দুপুর আড়াইটে থেকে সেই বৈঠকে হঠাৎই যোগদান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, সূত্রের খবর এমনটাই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে গোয়েন্দা বিভাগও। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া মন্তব্য, “আইবি কী করছে? আগাম কোনও খবর তারা পায় না কেন? খুন হয়ে যাওয়ার পরে রিপোর্ট দিলে চলবে না। আগেই কেন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না?”
গত জুলাই মাসে বীরভূমে এক সপ্তাহের মধ্যে দুই তৃণমূল নেতার খুন নিয়েও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার বাঁকুড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার সরব হলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। নইলে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এগিয়ে এসে কড়া হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন প্রশাসনকে। তবে এভাবে একের পর এক রাজনৈতিক খুন রুখতে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞ মহলও।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে হেনস্থা করার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত তিন সপ্তাহ ধরে একাধিক রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তাঁদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানো থেকে, রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী কার্ড’, ‘কৃষক বন্ধু’ থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে, বার্তা মমতার।
প্রতিটি বুথের মানুষের কাছে প্রশাসনিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পে প্রতিটি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ দিনের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, যেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে, সেখানেই ক্যাম্প করতে হবে। কোথায় কোথায় ক্যাম্প করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে, যাতে তাঁরা প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার জন্য সেখানে পৌঁছতে পারেন। সিনিয়র আধিকারিকদের দায়িত্ব নিতে হবে। সমস্ত সমস্যার যাতে দ্রুত সমাধান হয়, সেই দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।



